শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনে সবার নজর কেড়েছে পালি মধ্যপাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঘিরে এবার সেখানে পুকুরের জলের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো তিন তলা বিশিষ্ট ভাসমান পূজামণ্ডপ। নান্দনিক এই নির্মাণশৈলী ও ধর্মীয় আবহের অনন্য রূপ দেখতে মণ্ডপ প্রাঙ্গণে নেমেছে হাজারো মানুষের ঢল।
পুকুরের বুকে কাঠ, বাঁশ আর আধুনিক সাজসজ্জার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ত্রিতল মণ্ডপটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন শান্ত জলের বুকে ভেসে আছে এক অপরূপ রাজপ্রাসাদ। মণ্ডপের প্রতিটি তলায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক ও ধর্মীয় নানা অনুষঙ্গ। নিপুণ শৈল্পিকতায় একদিকে তুলে ধরা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের লীলা, অন্যভাগে সাজানো হয়েছে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদীর দৃশ্যপট। আর মূল বেদিতে স্থাপন করা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। পানির ওপর এমন সুনিপুণ বিন্যাস ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে তৈরি করেছে দারুণ মুগ্ধতা।
ব্যতিক্রমী এই ভাসমান মণ্ডপ দেখতে শুধু স্থানীয়রাই নন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন নারী-পুরুষসহ সব বয়সী দর্শনার্থীরা। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন জলের বুকে গড়ে ওঠা এই দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপটি একনজর দেখতে ও স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে। আগতদের মতে, জেলায় এমন ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী পূজামণ্ডপ উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে দর্শনার্থীদের মাঝে বিশেষ কিছু উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই কাঠ ও বাঁশের অবকাঠামোয় এই ভাসমান মণ্ডপের রূপরেখা তৈরি করা হয়।
এদিকে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হলেও উৎসবস্থল ঘিরে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ থাকায় নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন ও উৎসব উপভোগ করছেন ভক্ত-দর্শনার্থীরা।
