আচমকাই ধসে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। ১২তলা ভবনটির এক-একটি তল এমন ভাবে ভেঙে পড়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে যেন কংক্রিটের প্যানকেক টাওয়ার! মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি শুক্রবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ঘটেছে। সেই হাড়হিম করা দৃশ্যের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে, নাইরোবির ইস্টলি এলাকার একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়কের কাছাকাছি নির্মীয়মাণ ভবনটি দুপুর ১টা নাগাদ ধসে পড়ে। এই এলাকাটি জনবহুল। প্রতি দিনই হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার ভিড়ে গমগম করে। ‘দ্যটেলিগ্রাফঅনলাইনের’ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে নির্মীয়মাণ বহুতল ধসে পড়ার দৃশ্যটি। আচমকাই বিশাল ইমারতটি ধসে পড়তে শুরু করে। এক-একটি তল পরস্পরের উপর চেপে বসে যেতে থাকে। ধুলোর ঝড় ওঠে ঘটনাস্থলে। আতঙ্কে পরিত্রাহি চিৎকার করতে শুরু করেন আশপাশের মানুষজন। এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলটি একটি বিরাট ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। আক্রান্তদের উদ্ধার করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় উদ্ধারকারীদের। পরে সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরানোর কাজ শুরু করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই বহুতলের উপরের তলাগুলিতে নির্মাণকাজ চললেও নীচের তলা ও বেসমেন্টের অংশগুলিকে দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ফলে বহু মানুষ সেই ধসের নীচে চাপা পড়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটি ধসে পড়ার পরই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া কয়েক জন ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু, কিছুক্ষণ পরই তাঁদের মোবাইল ফোনগুলি অচল হয়ে যায়। ফলে, আটকে পড়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাইরোবিতে বহুতল ধসে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বহুতল নির্মাতারা নিরাপত্তাবিধি ও নির্মাণের নির্ধারিত মান মেনে চলছেন কি না, সেই নজরদারি তাঁরা করেন না। বহু ক্ষেত্রেই প্রাণ দিয়ে যার খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
