প্লট ফাঁকা নেই রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে। ৮৩টি প্লটের সবকটিতেই রয়েছে শিল্প-কারখানা। উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। তাই শিল্পায়নে সফল রংপুর বিসিক। দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য জায়গা নির্বাচনসহ একাধিক চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে প্লটের অভাবে শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে পারছেন না নতুন উদ্যোক্তারা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ না হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে আরও পিছিয়ে পড়ছে রংপুর অঞ্চল। বাড়ছে বেকারত্ব। প্রতিবছর হাজার হাজার স্বল্প শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের পাড়ি জমাতে হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরে।
রংপুর বিসিক সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নিয়োজিত সরকারি খাতের মূল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) রংপুরে কার্যক্রম শুরু করে ১৯৬৭ সালে। রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণের পর ৮৩টি প্লটে বিভক্ত করে উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে রংপুর বিসিকে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল), জিএফএল, খান ফাউন্ড্রি লিমিটেড, চৌধুরী আইস অ্যান্ড কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেড, বিসমিল্লাহ্ মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, নাইন জুট মিলস্, হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজ, রংপুর ফ্লাওয়ার মিলস্, নর্দান টিম্বার ইন্ডাস্ট্রিজ, ফিনিক্স কেমিক্যাল অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মিল্ক ভিটাসহ ২৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ প্লটই আরএফএলের দখলে। প্লটের আয়তনের ওপর নির্ভর করে রংপুর বিসিকে এ ক্যাটাগরির প্লট রয়েছে ১৩টি, বি ক্যাটাগরির ৩৯টি, সি ক্যাটাগরির ১৬টি, ডি ক্যাটাগরির ১৪টি ও স্পেশাল প্লট রয়েছে। শিল্পনগরী হওয়ায় সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ, যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধাদি পাচ্ছেন বিসিকে শিল্পকারখানা স্থাপন করা উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া বেকারদের একটি বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিসিকে। ২৫টি শিল্প-কারখানার মধ্যে বর্তমানে ২২টি সচল রয়েছে। ২০১০ সালে রংপুর বিভাগ গঠনের পর রংপুরে উদ্যোক্তা বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি বিসিকের প্লটসংখ্যা। শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে অনেক উদ্যোক্তা আগ্রহ দেখালেও ২০০২ সালে দ্বিতীয় শিল্প নগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে নগরীর দমদমা এলাকায় ৫০ একর জায়গায় নির্বাচন করা হয় এবং জমি অধিগ্রহণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটি আলোর মুখে দেখেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজার ১শ একর জমির সম্ভাব্য মূল্য, স্কেচ ম্যাপসহ বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সেই চিঠি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।
উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম বলেন, শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য বিসিক। তাই রংপুরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা গেলে আমরা উদ্যোক্তারা উপকৃত হবো। বিসিকে শিল্প-কারখানা স্থাপনে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়, প্লট পাওয়া যায়, ভালো সড়ক যোগাযোগ থাকবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ মেলায় উৎপাদন ভালো হয়। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স কিংবা অনুমতিপত্র সহজে মেলে। তাই রংপুরে শিল্পায়নের বন্ধ্যত্ব দূর করার জন্য দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেহেতু বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, অপরদিকে রংপুর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সৈয়দপুর পর্যন্ত গেছে। তাই শিল্প-কারখানার জন্য দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীতে গ্যাস সরবরাহের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উদ্যোক্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরে শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। আমরা চাই দ্রুত রংপুরে বিসিক শিল্পনগরী, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটানো হোক। তাহলে উত্তরাঞ্চলে বেকারত্ব ঘুচবে, দরিদ্রতার দুষ্টচক্র থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এমদাদ হোসেন বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে জায়গা না থাকায় রংপুরে যত্রতত্র ও কৃষিজমিতে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। ফলে দিনদিন কমছে কৃষিজমি, যা খাদ্য উৎপাদনকে হুমকিতে ফেলছে। তাই দ্রুত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। রংপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক বলেন, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীর জমির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠায় আমাদের আশ্বস্ত করেছে।