ফুলছড়িতে পাহাড় কেটে মার্কেট
৭২ ঘণ্টা পরও নীরব বন প্রশাসন, রেঞ্জারের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জে বন বিভাগের জমিতে পাহাড় কেটে পাঁচ কক্ষের একটি নতুন মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফকিরা বাজারের উত্তর-পশ্চিমে নির্মিত এই স্থাপনাটি ঘিরে জমির মালিকানা, বৈধতা ও বন বিভাগের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় গত এক বছরে কয়েক একর বনভূমি দখল করে আধাপাকা ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে পূর্বে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারুফ হোসেন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, সংবাদ প্রকাশের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা। এতে বনভূমি রক্ষায় বন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফকিরা বাজারের উত্তর-পশ্চিমে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ কেটে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। বন বিভাগের জমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র অভিযোগ করেছে, বন বিভাগের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণের সুযোগ দিতে বাড়িপ্রতি ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমানের বিরুদ্ধে বনভূমি রক্ষা ও তদারকি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ফুলছড়ির সহকারী বনসংরক্ষক শহিদুল হাসান শাকিল এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি নতুন যোগদান করায় পাহাড় কাটা কিংবা মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য নেই। তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারুফ হোসেনের পূর্ববর্তী বক্তব্য অনুযায়ী, বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তবে সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা ফকিরা বাজারের মার্কেটটির জমির দাগ-খতিয়ান, সীমানা নকশা ও মালিকানা যাচাই করে নির্মাণের বৈধতা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কতটুকু পাহাড় কাটা হয়েছে, কী পরিমাণ পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে এবং বনভূমি দখলের অভিযোগে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি উঠেছে।
