অনলােইন ডেস্ক
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ–এ দীর্ঘ সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ২১ ঘণ্টার এই বৈঠকে অগ্রগতি না হওয়ায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ আটকানোর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেডলাইন’ স্পষ্ট করেছে, তবে ইরান তা মেনে নেয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়ার স্টারমার ও হাইথাম বিন তারিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
আলোচনায় মূল বিরোধের বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিক, তবে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় সমাধান সহজ হবে না।
