জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে খুব বেশি দায়ী না হলেও এর বিরূপ প্রভাব আমাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব আমাদের দেশেও দেখা যাচ্ছে। এসব পরিবর্তনের ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে, মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবও আমরা মোকাবেলা করছি। শুধু তা-ই নয়, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও জলবায়ু পরিবর্তনের নানা ধরনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
একই সঙ্গে অর্থনীতিতেও একটি পুনর্বিন্যাস ঘটছে। আজকের আলোচনায় সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতির দিকে একটি রূপান্তর চলছে। এ রূপান্তর শুধু জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব জলবায়ু অর্থনীতি, মানুষের জীবন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়ছে। ফলে এ ধরনের রূপান্তর ও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি মনে করি, সামনের দিনগুলোয় এ ধরনের আলোচনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবগুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে এবং সেগুলো মোকাবেলায় আমাদের সহায়তা করবে। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই আমরা সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব—এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।
