কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রাজু কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাজমিন কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে উঠেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, হোটেলটিতে অবস্থান করতে রাজু তাকে সাহায্য করেছিল। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যান তাজমিন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন একটি স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণাদি নিয়ে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকাজ সম্পন্ন হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
