পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমী দেখে বাড়ি ফেরার পথে কালীগঙ্গা নদীতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় অদ্রিতা বেপারী (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা রিনা বেপারী (৪৫)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অদ্রিতা ও নিখোঁজ রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর মেয়ে ও স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকায় অষ্টমীর পূজা দেখে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন যাত্রীরা। ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত ১২টার দিকে অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রিনা বেপারীর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শংকর বেপারী জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অষ্টমীর পূজা দেখতে শ্রীরামকাঠী গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রলারটি কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ে সাঁতার না জানায় তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্ত্রীও নদীতে তলিয়ে যান। নিজে প্রাণে বাঁচলেও স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে না পারার বেদনায় ভেঙে পড়েন তিনি।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারে থাকা পাঁচটি মোটরসাইকেলও নদীতে ডুবে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দূর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ও নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁরা উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
নিখোঁজ রিনা বেপারীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
