বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এসআইআর নিয়ে একক পদক্ষেপ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। যা নিয়ে আপত্তি করেন দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত এই প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় আসমুদ্রহিমাচল। এবার ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ (আরটিআই) বা তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় জানা গেল, গত ২৯ জুলাই দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার বাস্তবিক ‘অস্বাভাবিক’ পদক্ষেপ করেন। তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এড়িয়ে সরাসরি ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। বুধবার ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু কী বিষয়ে চিঠি লেখেন তাঁরা? এরপর ঠিক কী ঘটেছিল?
দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠির বিষয়টি জানতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি আরটিআই আবেদন করে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। এর প্রেক্ষিতে ১৯ অক্টোবর উত্তর মিলেছে। যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর লেখা ২৯ জুলাই তারিখের চিঠি দু’টি ‘সেবা তীর্থে’ (যে কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় এবং ক্যাবিনেট সচিবালয় অবস্থিত) পৌঁছেছিল।
আরও জানা গিয়েছে, চিঠি দু’টি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয় এবং ৫ আগস্টের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সচিব সেগুলো ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (ডিওপিটি) কর্মকর্তাদের কাছে ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। যদিও চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ক্যাবিনেট সচিবালয় মোট ১৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র— যার মধ্যে কমিশনারদের ১০ পৃষ্ঠার চিঠি, দুই পৃষ্ঠার উত্তরপত্র এবং দুই পৃষ্ঠার ফাইল নোট রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২৮ টাকা ফি পরিশোধ করলে তা প্রকাশ আনা হবে। প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনাররা সচিবালয়ে কেন চিঠি লিখেছিলেন?
মনে করা হচ্ছে, নেপথ্যে ছিল ২৮ জুলাই জারি করা কাজের বণ্টন সংক্রান্ত একটি আদেশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রসেরে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে দুই কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। ওই আদেশকে নিয়মের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন তাঁরা। যদিও পরবর্তীকালে এই নতুন বণ্টন আদেশটি বাতিল করা হয়। বিতর্কিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই পরিবর্তনগুলোর ফলে নির্বাচনী তালিকার আইটি কাঠামোর ওপর থাকা তদারকির একটি স্তর কার্যত অপসারিত হয়। কমিশনাররাও স্পষ্ট করেন, তাঁদের অগোচরেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছিল। এটিকে ‘প্রচলিত রীতির থেকে আমূল বিচ্যুতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
যদিও ২৬ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, “মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিটি কমিশনের কোনও নীতিগত বিষয় বা আইটি বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। বরং এটি ছিল নির্বাচন কমিশনে (ইসিআই) কর্মরত একজন কর্মকর্তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জারি করা কাজের পুনর্বণ্টন সংক্রান্ত আদেশগুলো (দুই কমিশনারের নির্দেশনার পর) কার্যত বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া, আইটি বিভাগের ওপর ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের (ডিইসি) তদারকির বিষয়টিও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।”
তবে আরটিআই মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট যে, চিঠিগুলো সত্যিই পাঠানো হয়েছিল ক্যাবিনেট সচিবকে। সেগুলো কখন এসেছিল এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া উত্তর কোথায় পাঠানো হয়েছিল তাও জানা গিয়েছে। যদিও চিঠির বিষয়বস্তু এখনও রহস্যে ঘেরা। আবেদনকারী ইন্ডিয়া টুডে ২৮ টাকা ফি প্রদান করার পর নথিপত্র হাতে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তখনই দুই কমিশনাররা কী লিখেছেন এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারি তার ঠিক কী জবাব দিয়েছিলেন তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।
