Published on
:
2 min read
এই সময়, বারাসত: রাতের অন্ধকারে জেলা সদর বারাসত শহরের একটি পুজো মণ্ডপের চূড়ায় ধ্বজা এবং মণ্ডপের সামনে কালো কাপড় লাগানোর অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চমীর রাতে, বারাসতের পালপাকুরিয়া এলাকায়। এর জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। চিন্তায় পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। বারাসত থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে পুজো শুরু হলেও অভিযুক্তরা এখনও ধরা পড়েনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
বারাসত পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাকুরিয়া এলাকায় সপ্তর্ষি সঙ্ঘের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। পুজোর বয়স প্রায় ৩০ বছর। এই পুজোকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, ধর্মীয় আচার ও রীতি মেনে প্রতি বছর এখানে পুজো হয়। গ্রামের মহিলারা উপোস করে পুজোয় অংশগ্রহণ নেন। এতদিন পুজো করতে কোনও সমস্যা না হলেও পালাবদলের পর এ বারই প্রথম পুজোর ছন্দে তাল কেটে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চমীর দিন রাত ১টা নাগাদ পালপাকুরিয়া অধিবাসীবৃন্দের দুর্গাপুজো মণ্ডপে চড়াও হয় সাত–আটজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, তাঁরা মণ্ডপের চূড়ায় উঠে একটি ধ্বজা লাগিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মণ্ডপে ঢোকার মুখে কালো কাপড় লাগানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান পুজো কমিটির সদস্যরা। তারপরেও দুষ্কৃতীরা কালো কাপড় লাগিয়ে দেয়। এই পুজোকে জিহাদিদের পুজো বলেও গালিগালাজ করে তাঁরা। এরপরেই পুজো উদ্যোক্তারা বারাসত থানায় খবর দেন। পুলিশকে জানাতেই ষষ্ঠীর দিনে ওই পুজো মণ্ডপে পৌঁছায় পুলিশ। পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কালো কাপড় খুলে দেওয়া হয়। পুজো করার জন্য উদ্যোক্তা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন পুলিশকর্তারা।
পুজো কমিটির সম্পাদক জয়গোপাল দাস বলেন, ‘পুজো কমিটির অনুমতি ছাড়াই পঞ্চমীর রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে মণ্ডপের চূড়ায় ধ্বজা লাগিয়ে দেয়। মণ্ডপে ঢোকার মুখে কালো কাপড় লাগিয়ে বলে,এটা জিহাদিদের পুজো। আমরা গত ৩০ বছর ধরে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পুজো করছি। এ বার আমরা জিহাদি হয়ে গেলাম! বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা চাই, দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করুক পুলিশ।’ পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, ‘বারাসত থানার পুলিশ বিষয়টি নজরে রেখেছে। যথারীতি সেখানে পুজো হচ্ছে।’
