The Sangbad · রাজনীতি
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে তুঙ্গে ভেটো লড়াই
১৭/১০/২০২৬

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে চলছে টানটান উত্তেজনা। এখন পর্যন্ত ছয় দফা গোপন ভোটাভুটি হলেও কোনো প্রার্থীর বিষয়েই স্থায়ী সদস্য দেশগুলো চূড়ান্ত একমত হতে পারেনি; বরং বেশ কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমর্থনের চেয়ে বিরোধিতার পাল্লাই ভারী দেখা গেছে।জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন মহাসচিবের নাম সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করার জন্য ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত ৯টি ভোটের সমর্থন প্রয়োজন। তবে এতে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন) কারোরই বিরোধিতা বা ভেটো থাকা চলবে না। জাতিসংঘ কূটনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের বিভক্ত মনোভাবের মুখে বেশ কিছু সাবেক ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিবর্গ নতুন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার বিষয়ে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। তবে এই বিভক্ত পরিষদের সর্বসম্মত সমর্থন আদায় করা যে কারও জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ।জাতিসংঘের গত আট দশকের বেশি দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব পদে আসীন হতে পারেননি। ফলে এবার সর্বোচ্চ পদে নেতৃত্বের বৈচিত্র্য ও নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি তীব্রভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ‘আঙ্কটাড’-এর মহাসচিব ও মহাসচিব পদের অন্যতম শক্ত দাবিদার রেবেকা গ্রিনস্প্যান গত বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে কোনো দেশের ভেটো এলেও তিনি মোটেও অবাক হবেন না। অতীত নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রার্থীরা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। তার ভাষায়, ‘খেলা এখনো শেষ হয়ে যায়নি; আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’তিনি মনে করেন, পরবর্তী মহাসচিবকে একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জাতিসংঘের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অনুদান হ্রাস এবং সংস্থাটির একাধিক বিভাগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
গ্রিনস্প্যানের মতে, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অতি-সাবধানী বা ঝুঁকি না নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা পরিহার করা উচিত। নতুন নেতৃত্বকে ব্যর্থতার ঝুঁকি নিয়েও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সংস্থটিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, শীর্ষ পদ হ্রাস এবং একই কাজের বারবার পুনরাবৃত্তি বন্ধের ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, কেবল বাজেট বা ব্যয় ছেঁটে ফেলে জাতিসংঘের বর্তমান আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট দূর করা সম্ভব নয়; বরং সামগ্রিক পরিচালনা কাঠামোতে আমূল সংস্কার আনতে হবে।/
মূল প্রতিবেদনে যান ↗