নোবেল পুরস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। সব আলোচনার ধারা বা দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নোবেল পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, তখন বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, কি কারণে তাকে নোবেল দেওয়া হবে?
নোবেল পুরস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। সব আলোচনার ধারা বা দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নোবেল পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, তখন বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, কি কারণে তাকে নোবেল দেওয়া হবে? আর বিস্মিত হতে হয় যখন তিনি বলেন, তাকে নোবেল দেওয়া না হলে নোবেল কমিটি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হবেন। এর মধ্যে আবার এক কাণ্ড করে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল জয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুচিও এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আদালতটির কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমন পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিরোধ আরো তীব্র হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরপরই এমন ঘোষণা আসায় সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আইসিসির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধিতা আরো জোরালো হলো। উল্লেখ্য, নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিযুক্ত করা জাতিসংঘের একটি কমিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় আইসিসির যে কোনো সম্পদ জব্দ করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আদালতটির সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ করতে মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ছয়মাস সময় দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আদালতটিকে ‘বেপরোয়া প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করবো, এর অর্থের উৎস বন্ধ করে দেব এবং আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণ আইসিসির এখতিয়ারের অধীন নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, আইসিসি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেই গভীর আপত্তি রয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করার উদ্দেশে আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশেষ করে যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশ বা পক্ষগুলো নিজেরা করতে পারে না, সেসব ক্ষেত্রে আইসিসির ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু রুবিওর দাবি, আদালতটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মত দৃঢ়তা একমাত্র ট্রাম্পই দেখিয়েছেন। আইসিসিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হয় আইসিসি তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করবে, নয়তো আইসিসিকেই শেষ করে দেব। আবারো শক্তির দম্ভ। তবে কি আইসিসিকেও গাজার ভাগ্যবরণ করতে হবে?
