শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় কাজ করবেন আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য

প্রভাত রিপোর্ট: শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয় জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় থাকবে স্ট্রাইকিং পেট্রোল।’বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার বাহিনীর সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহাপরিচালক।
সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ‘এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজে তারা ভূমিকা রাখবে যেন সুযোগসন্ধানীরা ছোট কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে না পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্ট্রাইকিং পেট্রোল প্রস্তুত থাকবে।’তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে। অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনও ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল ব্যবহার করা হয়েছে।’ এবারও অ্যাপটিকে সমন্বয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো হবে বলে জানান তিনি।
ডিজি বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সদস্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন বলে জানা গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা কম উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। তাই তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’আনসারের ডিজি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য হলো সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা তৈরি করা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তারা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সেজন্য তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।’
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, ‘সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’তিনি বলেন, ‘কোনও কোনও পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। তাদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এছাড়া ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক।
More News Of This Category

