সিলেটে হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ ও সন্দেহজনক হামসহ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১১১ জন সন্দেহজনক হাম উপসর্গের রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৭ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
মৃত্যু হওয়া শিশুরা হলো, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাফিজুর রহমানের ১ মাস ২২ দিন বয়সী ছেলে পারভেজ ও সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর এলাকার কামাল উদ্দিনের দেড় বছরের মেয়ে সাদিয়া।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৪২ জন, হবিগঞ্জে ১৫৮ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে নতুন করে ১১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৬ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে ৪৪৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭২ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৩ জন রয়েছে।
এ ছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচজন, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১৬ জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাম ও সন্দেহজনক হামসহ ১৯২ শিশু এবং এক নার্সসহ দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
