সকাল থেকে রাত। রান্না করা, সবজি কাটা, বাসন মাজার মতো সংসারের যাবতীয় কাজ সামলাতে গিয়ে দিনের অনেকটা সময়ই দাঁড়িয়ে কাটে বহু মহিলার। দিনের শেষে হাঁটুতে ব্যথা, কোমরে টান বা গোড়ালিতে অস্বস্তি হলেও অনেকেই ভাবেন, একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বারবার এমন হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা কি সন্ধিস্থলের ক্ষতি করতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করা উচিত নয় এবং কীভাবে জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলের যত্ন নেবেন?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকলেই যে বাতের সমস্যা দেখা দেবে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। তবে একটানা কাজ, ভুল ভঙ্গিতে শরীর বাঁকানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব হাঁটু, কোমর ও গোড়ালিতে ব্যথা বাড়াতে পারে। বয়স, বংশগত প্রবণতা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, পেশির দুর্বলতা এবং পুরনো চোটও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
ব্যথা কি শুধুই ক্লান্তি?
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করলে কোমরে, হাঁটু, গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে অস্থিসন্ধির হাড়ের প্রান্তে থাকা তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। বয়স বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, পুরনো আঘাত এবং পেশির দুর্বলতাও এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।
তাই কাজের পরে সামান্য ক্লান্তি আর বারবার ফিরে আসা ব্যথাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। গাঁট ফুলে যাওয়া, শক্ত হয়ে থাকা বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা?
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় হাঁটুতে ব্যথা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হাঁটু ভাঁজ করে শরীরের ভার বহন করার সময় জয়েন্টে চাপ বাড়ে। তবে এই ব্যথা মানেই বাত নয়। হাঁটুর হাড়ের অবস্থান, পেশি বা টেন্ডনের সমস্যাতেও এমন হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটুর চারপাশের পেশিতে ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু শুধু দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাসই তরুণাস্থির ক্ষয় বাড়ায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই ব্যথার কারণ বুঝতে উপসর্গের ধরন ও অস্থিসন্ধির অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি।

ঘরের কাজেও প্রয়োজন বিরতি
ঘরের কাজের শারীরিক চাপকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একটানা দাঁড়িয়ে থাকা, বেসিনের সামনে ঝুঁকে বাসন মাজা বা নিচু তাক থেকে ভারী জিনিস তোলার ফলে কোমর ও হাঁটুতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। চাকরির পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব সামলানো মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশ্রামের অভাব এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বদল আনুন কাজের অভ্যাসে
রান্নার সময় একটানা দাঁড়িয়ে না থেকে কাজের ধরন বদলান। সবজি কাটার সময় টুলে বসুন, প্রয়োজনীয় বাসনপত্র হাতের নাগালে রাখুন এবং প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর অল্প সময়ের বিরতি নিন। ভারী পাত্র তোলার সময় তা শরীরের কাছাকাছি রাখুন। আরামদায়ক জুতো পরার পাশাপাশি উরু, কোমর ও পেটের পেশি শক্তিশালী রাখার ব্যায়ামও উপকারী।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, গাঁট ফুলে গেলে বা হাঁটাচলায় অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সংসারের কাজ এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া এবং শরীরের ভঙ্গিতে নজর রাখা জরুরি। ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ভেবে ব্যথা উপেক্ষা নয়, অস্থিসন্ধির সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা।
