জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মাহমুদ হাসান। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপাচার্য বরাবর এ স্মারকলিপি জমা দনে তিনি।
‘সৌরবিদ্যুৎনির্ভর ক্যাম্পাস গড়ি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করি—টেকসই বাংলাদেশের পথে এগিয়ে চলি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্পের ব্যয় ও সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরূপণ এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয়ও হ্রাস পেতে পারে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা কে এম মাহমুদ হাসান বলেন, “দেশে চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় টেকসই সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি দাবি করেন, সরকারের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
মাহমুদ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাচের সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন রয়েছে, যেগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় বেশি হলে প্রযোজ্য কারিগরি ও নীতিগত ব্যবস্থা অনুসারে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনা, প্রকল্পের ব্যয়-সাশ্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিরূপণ, প্রাথমিকভাবে এক বা একাধিক ভবনে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথ সুগম হতে পারে।
