সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সেখানে অবস্থানরত আহত বাংলাদেশিদের খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আকরাম হোসাইন সিএফের নেতৃত্বে সোমবার রিয়াদে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সৌদি আরব শাখার নেতৃবৃন্দ আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
রিয়াদে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি। আখতার হোসেন এ সময় তাদের চিকিৎসার খোঁজখবরও নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
বিজ্ঞাপন
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আকরাম হোসাইন সিএফ বলেন, বাংলাদেশি আহতদের একেকজনকে একেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে। শুরুতে দূতাবাস থেকে সাড়া না পেলেও এখন দূতাবাসের কর্মকর্তারা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন লাগবে। এখনো অনেকে আইসিইউতে আছেন। সৌদিতে চিকিৎসা বাংলাদেশ থেকেও ভালো। আবার সৌদি সরকার চিকিৎসা করাচ্ছে। কিন্তু পুনর্বাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে দায়িত্ব ও ব্যবস্থা নিতে হবে।
আকরাম হোসাইন সিএফ আরও বলেন, রিয়াদে ও দাম্মামে হামলা হচ্ছে বেশি। এই দুই শহরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকা উচিত। সামনের দিনে যাতে আর কেউ আহত বা নিহত না হন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দুঃখজনক হলো, দূতাবাস থেকে এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা জরুরি। যেহেতু সৌদিতে এই হামলায় আমরা ভিকটিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারলে সৌদি সরকারের সঙ্গে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা চালালে সফল হওয়া সম্ভব। এই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশি শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আবার ২০২৭ সাল থেকে ভিসা রিনিউ বা আকামার রেট বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। এই অবস্থায় বাংলাদেশিদের জন্য আকামার রেট কমানোর বিষয়ে সৌদি সরকারকে অনুরোধ করতে পারে বাংলাদেশ সরকার।
এনসিপি নেতা আকরাম হোসাইন সিএফ বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদিতে বসবাসরত ৩০ লাখ বাংলাদেশির অভিভাবক। তাদের কাছে যেন প্রবাসীরা এক কল বা এক মেসেজে পৌঁছাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা। প্রবাসীদের একটাই অভিযোগ, তারা বিপদে পড়লে দূতাবাসের সহায়তা পান না বা পেতে দেরি হয়। যেখানে ভারতীয় বা ফিলিপাইনের দূতাবাস আরও বেশি সক্রিয়। এটা করা জরুরি। সরকারকে যে কোনো মূল্যে এমন ইকোসিস্টেম করতে হবে, যাতে প্রবাসীরা এক কল বা টেক্সটে দূতাবাসের সাড়া পান।
