সুঠাম পেশিবহুল চেহারা। বার্ধক্যের জীর্ণতা এখনও ছাপ ফেলেনি। শরীরের গড়ন এখনও সুগঠিত। কে বলবে তিনি বৃদ্ধ! এ দিকে ৬৫ পার করে ফেলেছেন সুনীল শেট্টী। এখনও অ্যাকশন দৃশ্যে লম্ফঝম্পের পরিমাণ কমেনি। নিশ্চয়ই এর নেপথ্যে কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার বেড়াজালের কাহিনি রয়েছে। সম্প্রতি সে সব নিয়েই কথা বলেছেন বলিউড অভিনেতা। কিন্তু ফিটনেস রহস্য প্রকাশ পেতে জানা গেল, কোনও কৃচ্ছ্রসাধন নয়, বরং অন্য কয়েকটা বিষয়ই তাঁর ফিট থাকার চাবিকাঠি।
শরীরের গঠন ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার নেপথ্যে রয়েছে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, পরিমিত আহার এবং নিয়মিত শরীরচর্চা। তা বলে নিজেকে পছন্দের খাবার থেকে বঞ্চিত করেননি তিনি। কী তাঁর রোজের রুটিন?
অভিনেতা জানিয়েছেন, সকালে চারটি ডিমের সাদা অংশ খান তিনি। গ্লুটেন ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলেন, আবার রাতের খাওয়াও সেরে নেন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। তবে তাঁর খাদ্যতালিকায় মিষ্টি বা চায়ের জন্যও জায়গা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘চিনির বিকল্প চাই না। হয় মিষ্টি ফল, নয়তো চিনিই খাই। খাবারের পর মিষ্টি না পেলে আমি পাগল হয়ে যাই। আর ও সব পিঙ্ক সল্টে আমার হয় না। সাদামাঠা নুন দিয়েই খাবার খাই। বলা ভাল, খাবারের উপরে অল্প করে ছড়িয়ে নিই।’’ ডিম, মাছ, মাংস— সব খাবার খান সুনীল। দিনে মোট ১৬০০-১৭০০ ক্যালোরির খাবার খান তারকা।
সুনীলের সুস্থতার চাবিকাঠি। ছবি: সংগৃহীত
মিষ্টি, চিনি, নুন ইত্যাদি ডায়েটে থাকা সত্ত্বেও সুনীল কী ভাবে এত ফিট? তার কারণ লুকিয়ে অন্যান্য নিয়মে—
১. সুনীলের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া। নিয়মিত সন্ধ্যার মধ্যে নৈশভোজ সেরে ফেললে ঘুমোনোর আগে হজমের জন্য সময় পাওয়া যেতে পারে। এতে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
২. গম, বার্লি ও রাইয়ের মতো শস্যে গ্লুটেন নামের এক ধরনের প্রোটিন থাকে। রুটি, পাউরুটি, বিস্কুট এবং নানা ধরনের খাবারে তা পাওয়া যায়। সুনীলের শরীর গ্লুটেনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। সেই কারণে তিনি গ্লুটেনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন। ফলে হজমস্বাস্থ্য, বিপাকীয় স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
৩. দুগ্ধজাত খাবারও তাঁর সহ্য হয় না। দুধ, দই, পনির, ছানা ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার থেকে অনেকেই ক্যালশিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২ পান। কিন্তু কারও ল্যাক্টোজ় হজমে সমস্যা হলে দুধ খাওয়ার পরে পেটফাঁপা, গ্যাস, পেটের অস্বস্তি কিংবা ডায়ারিয়া হতে পারে। তাই এই সমস্ত খাবার থেকেও শরীর খারাপ হওয়ার সুযোগ দেন না তিনি।
৪. অভিনেতার খাদ্যতালিকায় মাছ ও মুরগির মাংসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দুপুরে বা দিনের অন্য সময়ে প্রায় ১৫০–২০০ গ্রাম ডিম, মাছ অথবা মুরগির মাংস খান। সন্ধ্যার খাবারেও একই পরিমাণ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার থাকে। প্রোটিন পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শারীরচর্চার পরে পেশির পুনর্গঠনে সাহায্য করে। মাছ থেকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও পাওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছ খেলে। তবে কতটা প্রোটিন প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক সক্রিয়তা ও স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে।
