দুর্গাপুজোয় মহিষাসুরের পুজোছবি: iStock
Published on
:
2 min read
পুরাণ অনুযায়ী ব্রহ্মার বরে প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে স্বর্গলোক আক্রমণ করেন মহিষাসুর। দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেন তিনি। মহিষাসুরের কাছে পরাজিত হয়ে ব্রহ্মার কাছে আশ্রয় নেন দেবতারা।
Highlights
মহিষাসুরের অত্যাচার: ব্রহ্মার বরে শক্তিশালী হয়ে স্বর্গলোক দখল করেন মহিষাসুর।
দেবী দুর্গার আবির্ভাব: ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহাদেব-সহ অন্যান্য দেবতার সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূতা হন দেবী।
দেবতাদের অস্ত্রদান: বিষ্ণুর চক্র, মহাদেবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র-সহ নানা অস্ত্র পান দেবী।
মহিষাসুর বধ: দেবী দুর্গার সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন অসুররাজ মহিষাসুর।
তিন রূপে বধ: পুরাণের এই কাহিনি অনুসারে, উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গার রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন দেবী।
মহিষাসুরের বরলাভ: কালিকাপুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, দেবীর পদলগ্ন হয়ে পূজিত হওয়ার বর পান মহিষাসুর।
মহিষাসুরকে ব্রহ্মার বর
কোনও পুরুষ মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না, এই বর স্বয়ং ব্রহ্মাই দিয়েছিলেন তাঁকে। তাই অনোন্যপায় হয়ে বিষ্ণু ও মহাদেবের শরণাপন্ন হন ব্রহ্মা। দেবতাদের দুর্দশার কথা শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, ইন্দ্র এবং অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকে নির্গত হলো তেজ। সেই সমবেত তেজ থেকে আবির্ভূতা হলেন এক পরমা সুন্দরী নারী। তাঁকে বিবিধ অস্ত্র দান করলেন দেবতারা।
দুর্গার রণসজ্জা
হিমালয় দেবীকে দিলেন তাঁর বাহন সিংহ। ব্রহ্মা দিলেন কমণ্ডলু। দেবরাজ ইন্দ্র দিলেন বজ্র। কুবেরের গদা, বিষ্ণুর চক্র আর মহাদেবের কাছ থেকে দেবী দুর্গা পেলেন পেলেন ত্রিশূল। দেবী হলেন দশভুজা, যিনি সর্ব শক্তির অধিকারী। দেবীর রণ হুঙ্কারে ত্রিলোক কাঁপতে লাগল। সঙ্গে যুক্ত হলো তাঁর বাহনের সিংহনাদ।
মহিষাসুর বধ
দেবী দুর্গার এই রূপে আকর্ষিত হলেন মহিষাসুর। দুর্গাকে মহিষাসুর বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা অবহেলায় প্রত্যাখ্যান করেন দেবী। ক্ষুব্ধ মহিষাসুরের সঙ্গে ঘোরতর যুদ্ধ হয় দেবীর এবং এই যুদ্ধে নিহত হন মহিষাসুর। মহিষাসুর তিন বার তিন রকম রূপ ধারণ করে জন্ম নেন। তিনবারই তাঁকে বিনাশ করেন দেবী। মহিষাসুরকে বধ করার জন্য প্রথমে অষ্টাদশভুজা উগ্রচণ্ডা রূপে, দ্বিতীয়বার ভদ্রকালী এবং তৃতীয়বার বধ করেন দশভুজা দেবী দুর্গা রূপে। দুর্গাই হলেন পরমা প্রকৃতি।
মহিষাসুরের পুজো
রাত্রিবেলা স্বপ্নে ভদ্রকালী মূর্তির দেখা পান মহিষাসুর। মহিষাসুর তাঁর আরাধনা করলে প্রীত ও প্রসন্ন দেবী তাঁকে বর প্রার্থনা করতে বলেন। মহিষাসুর জানালেন, ‘আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোনও দুঃখ বা ক্ষোভ আমার নেই, কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সকলের কাছে পূজিত হই সেই আশীর্বাদ করুন। এ ছাড়া আর কিছুই চাই না আমি।’ দেবী ভদ্রকালী তখন আশীর্বাদ করে বললেন, ‘উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী আর দুর্গা, এই তিন মূর্তিতে আমার পদলগ্ন হয়ে তুমি সব সময়েই দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের পূজ্য হবে।’ দেবীর পদলগ্ন হয়ে মহিষাসুরের পুজো পাওয়ার বিবরণ‘কালিকাপুরাণ’ ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না।
FAQ
প্রশ্ন: দেবী দুর্গার কী ভাবে আবির্ভাব হয়েছিল?
উত্তর: পুরাণের কাহিনি অনুসারে, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহাদেব, ইন্দ্র-সহ অন্যান্য দেবতার সম্মিলিত তেজ থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়।
প্রশ্ন: দেবী দুর্গা কোন কোন অস্ত্র পেয়েছিলেন?
উত্তর: দেবী দুর্গা মহাদেবের কাছ থেকে ত্রিশূল, বিষ্ণুর কাছ থেকে চক্র, ইন্দ্রের কাছ থেকে বজ্র এবং অন্যান্য দেবতার কাছ থেকে নানা অস্ত্র লাভ করেন।
প্রশ্ন: মহিষাসুরকে কোন কোন রূপে বধ করেন দেবী?
উত্তর: প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দশভুজা দুর্গার রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন।
প্রশ্ন: মহিষাসুরের পুজোর উল্লেখ কোন পুরাণে রয়েছে?
উত্তর: দেবীর পদলগ্ন হয়ে মহিষাসুরের পূজিত হওয়ার বিবরণ কালিকাপুরাণে পাওয়া যায়।
