Published on
:
2 min read
প্যারিস সফর থেকে ফেরার পরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পিছনে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ রয়েছে বলে দাবি করলেন ভগবন্ত। তিনি দাবি করেছেন, দিল্লি বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগের প্রধান মণীশ কুমার ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভাই। গোটা বিষয়টি নিয়ে এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন ভগবন্ত।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সম্প্রতি ফ্রান্স সফরে গিয়েছিলেন। গত ১৯ অক্টোবরে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরে কাস্টমস কর্তারা তাঁকে আটকে দেন বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে তাঁর লাগেজ পরীক্ষা করা হয়। তাঁর কথায়, তল্লাশিতে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও তাঁকে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। আম আদমি পার্টির (আপ) দাবি, কয়েক ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখার পরে ৫০ হাজার টাকার চালান দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে পাঞ্জাব জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও কাস্টমস অফিসার হিসেবে সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের ভাই মণীশ কুমার ছিলেন কি না এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত কুমারের এই হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে AAP-এর মিডিয়া ইন-চার্জ বালতেজ পান্নু সমাজমাধ্যমে বলেন, ‘কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এর আগে কখনও দেশের কোনও বিমানবন্দরে এ ভাবে অপমানিত হয়েছেন? কখনও তিন ঘণ্টা কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে আটকে রাখা হয়েছে? ৫০ হাজার টাকার চালান ধরানো হয়েছে?’ যদিও AAP-এর দাবি প্রসঙ্গে এখনও সরকার বা প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি।
গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও বিষোদ্গার করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর অভিযোগ, পাঞ্জাব সরকারের কাজকর্মে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের অনুমতি নিয়েও টানাপড়েন হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ভগবন্ত মানকে বিদেশ সফরে যেতে হয়েছে। দেশে ফেরার পরে বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনাকে একই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন তিনি। মানের বক্তব্য, ‘পাঞ্জাব বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছে। তাঁর সরকারও সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন থাকবে।’
