ভারতের মুম্বাইয়ে রোববার সন্ধ্যায় অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সময় আহত হন এক ভ্লগার। ওই সময় টাইগার শ্রফ একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলেন। অভিনেতার ভিডিও ধারণ করার সময় নিজের বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন ৩৬ বছর বয়সী উমেশ চৌহান। প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। পরে হাসপাতালে যাওয়ার পর জানতে পারেন, হামলাকারীদের ছোড়া গুলি তার শরীরে লেগেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উমেশ চৌহান ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমি টাইগারের ভিডিও ধারণ করছিলাম। হঠাৎ আমার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব হতে শুরু করে।’
ঘটনার সময় টাইগার শ্রফ গাড়ির সামনের আসনে বসেছিলেন। তার পরনে ছিল হাতাকাটা টি-শার্ট। গাড়ির জানালা দিয়ে ভক্তদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তিনি। তখনই গুলির শব্দ শোনা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সামনে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি দুই হাতে বন্দুক ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। পাশ থেকে টুপি পরা আরেক ব্যক্তিকেও গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন আরেক ব্যক্তি। গুলি চালানোর পর তিনজন ওই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উমেশ চৌহান বলেন, ‘সেদিন টাইগার শ্রফ খেলা শেষে বের হচ্ছিলেন। তখন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। তার গাড়ি গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় আমি টাইগার শ্রফ যেখানে বসেছিলেন, তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হলো—মনে হচ্ছিল, গাড়ির টায়ার ফেটে গেছে। এর পরপরই আমার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিৎকার করে সবার কাছে সাহায্য চাইছিলাম। বলছিলাম, আমার বুকে ব্যথা হচ্ছে, আমি শ্বাস নিতে পারছি না। আমি জানতাম না যে আমাকে গুলি করা হয়েছে। কুপার হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই বিষয়টি জানতে পারি।’
আহত উমেশকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অভিনেতার মা। তিনি উমেশকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। মুম্বাইয়ের জুহুতে কুপার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত কেএইএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ট্রেনে দিল্লি যাওয়ার পথে গ্রেফতার অভিযুক্তরা
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের রাজস্থানের কোটায় একটি ট্রেন থেকে আটক করা হয়েছে। তারা দিল্লির দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল নেপালে পালিয়ে যাওয়ার।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, হামলাটি চালানোর জন্য অভিযুক্তরা সম্মিলিতভাবে অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি পেয়েছিলেন।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে সিগন্যাল ও টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের সময় অভিযুক্তরা ট্রেনের সাধারণ কামরায় ভ্রমণ করছিলেন। তবে তাদের কাছ থেকে গুলি চালানোর অস্ত্র এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
হামলার দায় স্বীকারের দাবি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো যাচাই করেনি পুলিশ।