ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ম সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে গঠিত ২২টি উপকমিটির কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। একইসঙ্গে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কমিটিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবেরা।
২০২৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ আয়োজন সামনে রেখে একটি মূল কমিটির অধীনে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় জানানো হয়, প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমাবর্তনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, নিবন্ধন ও অভ্যর্থনা কার্যক্রম শেষ হলে অংশগ্রহণকারীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে।
সভায় সমাবর্তনের বাজেট দ্রুত পুনর্বিন্যাস করে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের সমাবর্তনের সনদের নকশা তৈরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান আয়োজনের কাজ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপাচার্য বলেন, “আগামী ডিসেম্বরের যেকোনো সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবস্থায় পৌঁছানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কমিটিকে নিজ নিজ দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা থাকবে। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমন্বয়হীনতার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
প্রস্তুতির কাজে গতি আনতে উপাচার্য জানান, কোনো সদস্য কমিটিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলে তা আগেই আহ্বায়ককে জানাতে হবে। এতে প্রয়োজনে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, কোনো কমিটির কাজে গতি আনতে অতিরিক্ত সদস্য যুক্ত করার প্রয়োজন হলে লিখিত সুপারিশ দিতে বলা হয়। বয়স ও কাজের চাপ বিবেচনায় কিছু দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সমাবর্তনের বিভিন্ন উপকমিটির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য আবাসন, পরিবহন, উপহারসহ অন্যান্য কমিটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রকৌশল দপ্তর ও স্টেট শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে অতিথিদের আসনবিন্যাস, ভিআইপি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পাস যথাসময়ে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
