ধর্ষণের অভিযোগে প্রায় একমাসের উপর জেলবন্দি ছিলেন। জামিন পাওয়ার পর ফিরেছিলেন বাংলা দলে। রনজি প্রত্যাবর্তনেই দুরন্ত ব্যাটিং করলেন অভিষেক পোড়েল। ঝকঝকে সেঞ্চুরি হাঁকালেন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দিল্লির বিরুদ্ধে। তাঁর শতরানে ভর করে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে নিল বাংলা। রনজি অভিযানের শুরুটা বেশ ভালোই করলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লার ছাত্ররা।
চলতি বছরের জুনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে পোড়েলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আনেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া। জানা গিয়েছে, সাড়ে তিন বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ক্রিকেটারের। একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছেন।ওই তরুণী মগরা থানায় অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিকবার চন্দননগরে অভিষেকের বাড়িতে যায়। গ্রেপ্তারি এড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, তারকা ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। তারপর সেই মেয়াদটা বেড়ে দাঁড়ায় একমাসে। ৩৬ দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দেওয়া হয় চুঁচুড়া হাই কোর্টে। এর মধ্যে বাংলার রনজি ট্রফির প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়। সেখানে জায়গা হয়নি পোড়েলের। তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়। তবে জামিন পাওয়ার পরেই বাংলা দলে কামব্যাক অভিষেকের।
দিল্লির বিরুদ্ধে এবারের রনজি অভিযান শুরু করেছে বাংলা। প্রথম দিনে দাপট দেখিয়েছিলেন বাংলার বোলাররা। দ্বিতীয় দিনে কল্যাণী স্টেডিয়ামে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ব্যাটারদের। প্রথম দিনের শেষে দিল্লিকে মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে দেন মহম্মদ শামিরা। দ্বিতীয় দিনে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ব্যর্থ হলেও শতরান হাঁকান সুদীপ কুমার ঘরামি। যোগ্য় সঙ্গতে সেঞ্চুরি এল অভিষেকের ব্যাট থেকেও। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলা ইনিংসকে টেনে তুললেন দুই শতরানকারী, ২০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে। দিনের শেষে তিনশো পেরিয়েছে বাংলা। ক্রিজে রয়েছেন দুই শতরানকারী। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের লিড নিয়েছে বাংলা।
