আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরের জল ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে। শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা রেকর্ডে নজিরবিহীন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর প্রভাব আগামী ২০২৭ সালেও আবহাওয়ার উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এল নিনোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এই অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তাপমাত্রা উপলব্ধ রেকর্ডে আগে দেখা যায়নি।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
কী এই এল নিনো?
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিবাহী মেঘের চলাচলে পরিবর্তন ঘটে। প্রভাব পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায়।
WMO-র তথ্য অনুযায়ী, নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার গড় বিচ্যুতি জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আগস্টে তা বেড়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বে এই বিচ্যুতি প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। তা হলে ২০১৫-১৬ সালের ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পূর্ববর্তী রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে।
ভারতের আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ বৃষ্টিপাত। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। WMO-র অক্টোবরের পূর্বাভাসেও দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে আগামী মাসগুলিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ উপদ্বীপীয় দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে এল নিনোই ভারতের আবহাওয়া নির্ধারণ করে না। অন্যান্য জলবায়ুগত পরিস্থিতি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালের আবহাওয়ায় এই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব কতটা পড়বে, তা বুঝতে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের উপর নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
