সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়ায় ‘ক’ গেজেট ভুক্ত সরকারি জায়গার অর্ধেক আগে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। এবার বাকি অর্ধেক জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
সরকারি জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেটি খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজায় প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলী দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন বিএনপিপন্থি শরিফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে সেই সাইনবোর্ড খুলে ফেলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভবন মালিক ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শরিফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানুষজন হুমকি দিয়েছিল, তাই নায়েব ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিল। নায়েব কাগজ দেখে বলছে সব ঠিক আছে। আমরা মামলা করেছি কেসের নথি জমা দিয়েছি। রায় তাড়াতাড়ি পাবো। আমরা ১৫ কিনেছি, ১৫ই খাই। গেজেটে এসেছে তাই সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, এইসব বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই। আমরা ভাই ভাই, আমি আমিনের কাজ করছি। সামান্য এই বিষয় নিয়ে নিউজ করার দরকার নাই।
এবিষয়ে বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. মঈন উদ্দীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওনারা (শরিফুল ইসলাম গং) জোর করে ভবন নির্মাণ করেছেন। তারা তো বিএনপিই করে, আগে অর্ধেক আওয়ামী লীগ দখল করেছিল। এখন বিএনপি ক্ষমতায় আছে, ওরা বিএনপি করে, তাই ওরা তুলেছে এই। জায়গা তো আমাদেরই। এটি সরকারি জায়গা, আমরা সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। তবে রাতের আঁধারে সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। ওরা যে সরিয়ে ফেলেছে, সেই রিপোর্টও এসিল্যান্ড অফিসে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করলেও তারা রিসিভড করেননি।
তবে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. নুর নাহার বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। তদন্ত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলে দেব। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. নাজমুল হাসান/এসএইচএ
