প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
ঢাকার সাভারে অবস্থানকালীন সময়ে নওগাঁর আত্রাইয়ে সশরীরে উপস্থিত থেকে এক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাদাবাজির অভিযোগে ভুতুড়ে মামলা হয়েছে। আত্রাই থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার সময় আসামী সশরীরে উপস্থিত হয়ে ২০ লাখ টাকা চাদাবাদি করেছেন। যা পুরোপুরি মিথ্যা। মুলত হয়রানির করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক সিফাত মাহমুদ ফাহিমের পিতা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক ও খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম এমনটাই দাবি করেন।
তাদের দাবি, মামলার বাদি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি মালামাল অবৈধভাবে সরিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় ‘আত্রাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগ, ডিসিকে ইউএনওর চিঠি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ দৈনিক ইনকিলাবে ‘ধর্ষণ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গ্রেফতার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও এর আগে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফাহিমসহ গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। তারই প্রেক্ষিতে সাংবাদিক ফাহিমের উপর আক্রোশ বাড়তে থাকে। ওই চেয়ারম্যানের ধারণা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পেছনে সাংবাদিক ফাহিমের হাত আছে। সেই ধারণা থেকেই ফাহিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেন চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার তার তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাম পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ তদন্ত করতে আসেননি বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই বক্তব্যের একটি রেকর্ডিং পরিবারের কাছে রয়েছে। পরিবারের দাবি, দুই সাক্ষী মো. সবুজ হোসেন ও মো. শহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে হলফনামার মাধ্যমে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। অন্য আরো একজন স্বাক্ষী মো. আল আমিন খাঁ তিনি দেশের বাইরে থাকেন।
পরিবারের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা কোন প্রমাণাদি সংগ্রহ না করেই কেসটি ডায়েরিভুক্ত করেছেন। মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এতে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। কারণ গত ২৬ এপৃল দৈনিক ইনকিলাবের নওগা জেলার আত্রাই প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিম ঢাকার সাভারের তার ভাড়া বাসায় ছিলেন। ওইদিনই সাংবাদিক ফাহিমের বিরুদ্ধে স্ব-শরীরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২০ লাখ টাকা চাদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়। ছাত্রজীবনে সাংবাদিক ফাহিম আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। মামলার বাদী মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল নওগাঁর আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং একই উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আত্রাই থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেলিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও মিথ্যা তথ্য আদালতে পাঠানোর অভিযোগ করা হয় পরিবারের তরফ থেকে।