নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নদীর আনন্দবাজার ছনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ড্রেজার, একটি অ্যাঙ্কর বোট, একটি হাউসবোট, এক হাজার ফুট পাইপ ও সাড়ে সাত হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার দৌলতপুর থানার চর কালিকাপুর গ্রামের আবদুল মান্নান শেখের ছেলে আব্দুল খালেক, একই জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ক্রোড়গাছা গ্রামের আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার তিস্তাপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামালের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে মেঘনা নদীতে রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম ও তাঁর চাচা রূপচানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন রক্ষায় নদীতে ড্রেজিং বন্ধ রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার সন্ধ্যায় বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামালের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেনসহ পুলিশের একটি দল আনন্দবাজার ছনপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বালু ও সরঞ্জাম জব্দসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, পুলিশের ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে একটি চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ড্রেজার, বোট ও বালু জব্দ করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
