আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনায় গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৩ জন নারীকে গ্রামীণ নারী সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ২৫ জন এবং কলমাকান্দা উপজেলার আটজন আদিবাসী নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও রয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন বারসিক এবং এর সহযোগী সংগঠন গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। সদর উপজেলার ফচিকা এলাকার কুতুবপুর গ্রামের দারোগাবাড়ির আঙিনায় এবং কলমাকান্দায় পৃথকভাবে কৃষিপণ্য মেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সদর উপজেলার দারোগাবাড়িতে আয়োজিত মেলায় গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত ৩৬ জাতের সবজি, ২২৫ জাতের ধানবীজ, ৭৩ জাতের সবজিবীজ, ১১ জাতের জৈব বালাইনাশক, ২৭ জাতের অচাষকৃত সবজি, ১৭ জাতের ফল এবং ১৪ ধরনের কুটিরশিল্প পণ্য প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ কৃষিচর্চা, জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এসব নারী। তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এ সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশন নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি আলপনা বেগম। সঞ্চালনা করেন গ্রিন কোয়ালিশন আটপাড়া উপজেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া নাসরিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এ সময় বক্তব্য দেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক, নেত্রকোনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফারজানা পারভীন এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত তাঁরা ৭২ জন গ্রামীণ নারীকে এ সম্মাননা দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁদের অবদানের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে।
এমএস/
