পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী মো. বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
অভিযোগকারী বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬) নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযানে বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদাম থেকে ইউরিয়া দুই বস্তা, ডিএপি সাড়ে তিন বস্তা, এমওপি এক বস্তা এবং টিএসপি পাঁচ বস্তা সার জব্দ করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিপুল কুমার মল্লিকের করা অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযান শেষ হওয়ার পর বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি দীঘিরজান বাজারে ব্যক্তিগত কাজে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তার পথ আটকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সহযোগিতা করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা জানান, আগে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ সার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গেও অসদাচরণ করেন। পরে অভিযানস্থল থেকে চলে আসার পর ওই ব্যক্তি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল মল্লিকের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, অভিযান শেষে কৃষি বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মদিবসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
