টি-টোয়েন্টিতে ভারত যতই বিশ্বজয়ী হোক, ভারতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসে শ্রেয়স আইয়ারের টিমকে কম ভোগাচ্ছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে ভারত হেসেখেলে জিতলে কী হবে, রাঁচিতে দ্বিতীয় ম্যাচে আড়াইশো তাড়া করে ম্যাচ জিতে গিয়েছে লয়েডের দেশ। তৃতীয় ম্যাচে আবার ভারত জেতে। ১৪ রানে। বুধবার হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ। এবং সেখানে নামার আগে ভারতের দুশ্চিন্তার নাম বোলিং।
আসলে গত ওয়ানডে সিরিজ থেকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে ভারতীয় বোলিং। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাই চলছে। জশপ্রীত বুমরাহ-হীন বোলিং যে ভারতীয় দলকে দারুণ স্বস্তিতে রাখছে না, সেটা টিমের কথাবার্তা থেকেও স্পষ্ট। ভারতীয় টিমের সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মা মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলছিলেন, “মাথায় রাখতে হবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুর্ধর্ষ টিম। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা প্রচুর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে। তাই এই ফর্ম্যাট কী করে খেলতে হয়, সেটা ওরা ভালোই জানে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ে যে শক্তি রয়েছে, অবিশ্বাস্য।”
সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিমের প্রত্যেকে বল হিট করতে পারে। প্রত্যেকে। এমন নয় যে. ওপেনার কিংবা দলের তিন বা চার নম্বর বড় শট খেলে। ওদের এগারো নম্বর ব্যাটারও এসে বড় শট নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রিল্যাক্স করার কোনও জায়গা নেই।” অতএব তিলক চান, ভারতীয় বোলাররা বল করুন উইকেট নেওয়ার লক্ষ্যে। ডিফেন্সিভ বোলিং করা ছেড়ে। যিনি বলে গেলেন, দলের হেড গৌতম গম্ভীরও বোলারদের থেকে একই জিনিস চান।
“রাচিতে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা উইকেটের জন্য ঝাঁপাইনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন রান করছিল, আমরা কিছুটা হলেও ডিফেন্সিভ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর গৌতম (গম্ভীর) স্যরও বলে দেন, আক্রমণাত্মক বোলিং করতে। আগ্রাসী হতে”, বলতে থাকেন তিলক। রাঁচিতে হারের পর ইন্দোরে ফিরে আসে ভারত। কিন্তু সেই ম্যাচেও শেষ দিকে ধুয়াধার ব্যাট করা শুরু করে দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা।
বুধবার সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ যেখানে, সেই রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের পিচ নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। তিলক জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত আগে পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখবে। তার পর সেই অনুযায়ী দল নামাবে। “পরিবেশ না বুঝে, প্রথম বল থেকে আক্রমণে যাওয়া যাবে না। ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্রথম পাঁচ-ছ’টা বল সময় নেওয়া যায় সমস্ত বোঝার জন্য। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সেটা সম্ভব নয়। সেখানে একটা কিংবা দু’টো বল নেওয়া যায়,” বলে দিয়েছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক। যাঁকে আবার চিরাচরিত তিন নম্বর স্লট ছেড়ে ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে যেতে হচ্ছে সম্প্রতি। যদিও তাতে আপত্তি নেই তিলকের। বলছেন, “আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি যে, তিন নম্বরে ব্যাট করা আমার বরাবরের পছন্দ। কিন্তু টিমের যেখানে আমাকে প্রয়োজন হবে, আমি সেখানেই খেলতে রাজি।”
