রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের ভেতরের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে গতকাল সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে (৭২) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল হিমাগারে আছে। তাঁর দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি ফিরলে দাফন করা হবে।
নিহত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজন ও হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। থাকতেন রাজধানীর বনানীতে। মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে গিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলে রেখে তিনি একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে চলে যান। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে প্রথম আলো আজ শনিবার কথা বলেছে অফিসার্স ক্লাবের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েকে সুইমিং করাতে এসেছিলেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। মেয়েকে রেখে তিনি অফিসার্স ক্লাবের অফিসের দিকে আসেন। কিন্তু ভুল করে লিফটে না উঠে সিঁড়িতে চলে যান। সিঁড়ি ধরে ভবনের বেজমেন্টে চলে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা (এক্সিট) খুঁজে পাননি। এভাবে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে নিচে ( সেখানকার একটি গর্তের মতো জায়গা) পড়ে যান। এগুলো পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরে অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেনের মেয়ে এসে জানান, তাঁর বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়। প্রথমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মোশাররফ হোসেন ক্লাবের বাইরে বের হননি। তখন খুঁজতে খুঁজতে বেজমেন্টে তাঁকে ওই অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ আসে। তারাও সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে দেখেছে, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।
মোশাররফ হোসেনের চোখে আগেই অপারেশন করা হয়েছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। আগে থেকে কম দেখতেন উল্লেখ করে অফিসার্স ক্লাবের ওই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিবের ভুলে যাওয়ার রোগও আছে। পুরো ঘটনাটি আসলে দুর্ভাগ্যবশত ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার হওয়ায় সকালের দিকে ক্লাবে লোকজনও কম ছিল।
এর আগে এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, গতকাল মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে মোশাররফ হোসেন নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে যান। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেনের এক আত্মীয় প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না। তিনি মারা গেছেন এটুকুই জানেন। এখনো দাফনের সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর এক মেয়ে বিদেশ থেকে দেশে এলে দাফন করা হবে।
