আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরান হামলার দিয়েছেন। সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। তেহরানের সাফ বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েল ফের আক্রমণ চালালেও হরমুজ নিয়ে তাদের নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না। জলপথ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।
রবিবার তেহরানের এক টেলিভেশনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, "আমেরিকা ও ইজরায়েল এর আগে দু'বার হামলা চালিয়েছে। নতুন করে কোনও হামলা চালালেও তাতে ফলাফল বদলাবে না। যদি সামান্যতম বুদ্ধিমত্তা থাকে, তবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনওরকম সামরিক পদক্ষেপের চেষ্টা করবে না।" বর্তমান সংঘাতকে 'রমজান যুদ্ধ' বলেও আখ্যা দেন তিনি। জানান, এই যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। কেননা যুদ্ধের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ চিরতরে বদলে গেছে।
আরাঘচি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় আমেরিকার ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলির বেশিরভাগ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি তেহরানের।
একই সুরে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফও জানান, গণমাধ্যমের চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে ইরান কখনওই মাথা নত করবে না।
প্রসঙ্গত, শনিবার (আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা জানান। পাশাপাশি একটি বড় চুক্তির পথও খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। দেশটি রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও বহু শীর্ষ কর্তা নিহত হন। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এই জলপথ ও নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
