নিয়মিত হাঁটা শরীর সুস্থ রাখার সহজ উপায়। তবে কেবল কতটা হাঁটা হচ্ছে, তা নয়, হাঁটার গতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে।
গবেষণায় বলা হচ্ছে, বেশি হাঁটা কিংবা তুলনামূলক দ্রুত হাঁটার অভ্যাস হৃদরোগসহ বিভিন্ন কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্পেনের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদের গবেষকেরা গবেষণাটি করেছেন।
প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক লে ওয়েইয়ের নেতৃত্বে গবেষক দলটি যুক্তরাজ্যের ৬৪ হাজার ৭৪৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৬২ বছর।
অংশগ্রহণকারীরা এক সপ্তাহ ধরে হাতে বিশেষ যন্ত্র পরেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ ও হাঁটার গতি মাপা হয়। এরপর প্রায় আট বছর তাদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময়ে ১ হাজার ৬৯৭ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ৫০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল হৃদরোগজনিত কারণে।
গবেষকেরা প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে ভাগ করেন। দিনে ৫ হাজারের কম পা ফেলা, ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০, ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার এবং ১০ হাজারের বেশি পা ফেলা ব্যক্তিদের তথ্য তুলনা করা হয়।
দেখা গেছে, দিনে ৫ হাজারের কম পা ফেললেও যারা তুলনামূলক দ্রুত হাঁটতেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি কম ছিল। তাদের ঝুঁকি অনেকটা ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ বার পা ফেলা ব্যক্তিদের মতো।
অন্যদিকে, দিনে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার বার পা ফেলতেন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে কম।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট তুলনামূলক দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ৯০ থেকে ১০০ বার পা ফেলাকে সম্ভাব্য গতি ঠিক করে নিলে ভালো।
তবে সবার পক্ষে একই পরিমাণ হাঁটা সম্ভব নয়। সময় বা শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটার পরিমাণ ও গতি ঠিক করা যেতে পারে।
গবেষণাটি ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় হাঁটার পরিমাণ ও গতির সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে দ্রুত হাঁটলেই আয়ু বাড়বে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
