

গণমাধ্যমে অপপ্রচার ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা পঞ্চগড় সার্কিট হাউস কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এতে জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছাঃ শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম এবং রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্মসচিব) মোঃ আব্দুস সবুর।
প্রধান অতিথি বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম অপসাংবাদিকতা ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন।
কর্মশালায় পঞ্চগড়ের ৫৪ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
দূর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর এসআরবি-৮
ঝালকাঠিতে শারদীয় দূর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-৮। দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঝালকাঠিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮ বরিশাল এর পক্ষ থেকে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে ঝালকাঠি জেলার ১৫৯টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে ব্যাটালিয়নটি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ডপ পরিদর্শন শেষে এসআরবি-৮ এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঝালকাঠির শ্রী শ্রী মদন মোহন ঠাকুরের আখড়াবাড়ি ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৮ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম (জি), বিএন বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। উৎসবটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এসআরবি-৮ বরিশাল। নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোর সিসিটিভি ব্যবস্থা তদারকি, স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়, ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে নজরদারি, বডি-অন ক্যামেরার ব্যবহার এবং বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৭৭৭-৭১০৮৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ব্যাটালিয়নের অন্যতম দায়িত্ব। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ আশিক ইকরাম সৌরভ, সিপিএসসি কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান ও শ্রী শ্রী মদন মোহন ঠাকুরের আখড়াবাড়ি ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি অ্যাডভোকেট নির্মল কান্তি দে তরুণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ঝালকাঠিতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন এসআরবি-৮ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম (জি), বিএন।

সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শিবপুরে মানববন্ধন
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে নরসিংদীর শিবপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকাল ৪টায় উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে শিবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব। মানববন্ধনে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুর রব শেখ মানিক এর সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে শিবপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা লেখক মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন আবিল, সহ-সভাপতি বশির আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ সুরুজ মিয়া, দপ্তর সম্পাদক তৈয়বুর রহমান ভূইয়া, নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য কাদিরসহ বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন এবং খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নেছারাবাদে ১০২টি পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান ও উপহার বিতরণ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল ৩টায় নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেছারাবাদ উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। দুর্গাপূজার আনন্দ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এ আনন্দ আমাদের সবার। এ দেশ আমাদের সবার, আর এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা যারা সনাতন ধর্মাবলম্বী রয়েছেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক। বিগত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে ভোট দেওয়ায় আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আগামী দিনেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” তিনি শারদীয় দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. ফখরুল আলম, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আলহাজ আবদুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির তালুকদার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফরিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ কাজী কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ সহায়তা দুর্গাপূজার আয়োজনকে আরও সুন্দর ও উৎসবমুখর করতে ভূমিকা রাখবে।

আগুন লাগার পর মালিক তানভীরের পোষা কুকুর-বিড়ালসহ পালিয়ে যায় ১৯ কর্মী
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা, রান্নাঘরের গ্যাসের চুলায় চা বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে কর্মরত এক কর্মী। কিছুক্ষণ পর সেই রান্নাঘর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত রিসোর্টটির সবর্ত্র আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো ওই রিসোর্টে অবস্থান করা যশোরের একই পরিবারের চারজনের কোনো হদিস মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও টুপটুপ রিসোর্টের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই রিসোর্টটির প্রায় সব কর্মী ও কয়েকজন অতিথি দ্রুত বেরিয়ে পড়লেও বেশ কয়েকজন কক্ষে আটকা পড়েন। রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় ছিলো প্রতিষ্ঠানটির মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল। আগুনের সূত্রপাত হলে রিসোর্টের ৪-৫ জন কর্মী প্রথমে সেই প্রাণীগুলো নিয়ে দ্রুত বাইরে চলে আসে বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। টুপটুপ রিসোর্টের অদূরেই বসতঘর প্রত্যক্ষদর্শী সেই যুবকের। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়, বাইরে এসে দেখি টুপটুপ জ্বলছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪-৫ জন কর্মী কুকুর ও বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন, যেগুলো তাদের মালিক পুষতেন বলে জানতাম। তানভীরকে (মালিক) অসংখ্যবার কুকুরসহ বিচে হাঁটতে দেখেছি। অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের সেই মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে ১নং আসামিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যার বাদী পুলিশ। তানভীরের ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকেও আসামি করা হয়েছে এবং ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় আটক রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এক আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের আগে সুমন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনিসহ রিসোর্টের ১৯ জন কর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং আগুন লাগার পরপরই তারা প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে পড়েন। এছাড়াও রিসোর্টের ৯টি কক্ষের ৬টিতে ২১ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। ২০২২ সালের জুনে উখিয়ার ইনানী মৌজায় গিয়াস উদ্দিন গং থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া ১০ শতক জমি ক্রয় করেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টিপু সুলতান মিয়ার ছেলে তানভীর সুলতান মিয়া। পরে বন্ধু নিয়াজ মোরশেদসহ সেই জমিতে টুপটুপ রিসোর্ট গড়ে তোলেন তিনি এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় যার ব্যবসায়িক কার্যক্রম। রিসোর্ট ব্যবসার পাশাপাশি তানভীরের রয়েছে সার্ফনেট নামে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। টুপটুপে অতিথিদের আর্কষণের জন্য পোষ্য কুকুর-বিড়ালের একটি সংগ্রহশালা বানিয়েছিলেন তিনি, যেখানে কেনি নামের ইতালিয়ান প্রজাতির ও কিয়ানা নামে আরেকটি জার্মান প্রজাতির কুকুর ছিল। এছাড়াও পার্সিয়ানসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েকটি বিড়াল রাখা ছিল সেই সংগ্রহশালায়, পোষার পাশাপাশি তিনি প্রাণীগুলো ক্রয়-বিক্রয় করতেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তানভীর পলাতক রয়েছেন এছাড়াও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।

কমলনগরে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা সদর হাজিরহাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, হাজিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি হাজি আইয়ুব আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ও অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিক উল্যাহ। আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা তানজিলা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মঈন উদ্দিন, হাজিরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমির সহকারী শিক্ষক মাইন উদ্দিন হিরন, মাওলানাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান, কুশাখালী এ্যানী চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইব্রাহীম, সাংবাদিক এআই তারেক, সমাজসেবক আজাদ উদ্দিন, শিক্ষার্থী হালিমা সুলতানা ও সিয়াম আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। এসময় তাঁরা সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফাউন্ডেশন মেধা বৃত্তি পরীক্ষা এবং আলোর ভুবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ১৩৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।


