মঙ্গল ও মালতি আত্মসমর্পণ করেন। ছবি: এই সময়
Published on
:
2 min read
ঝাড়খণ্ড স্কোয়াডের দুই মাওবাদীর আত্মসমর্পণ। কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মঙ্গল এবং মঙ্গলের স্ত্রী মালতী আত্মসমর্পণ করলেন কলকাতায় লালবাজারে এসে। শুক্রবার আগ্নেয়াস্ত্র-সহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দম্পতি মঙ্গল-মালতী। মঙ্গল ও মালতী আত্মসমর্পণের পরেই পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ মাওবাদী-মুক্ত বলে দাবি করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। মঙ্গলের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও কার্তুজ এবং মালতীর কাছ থেকে একটি ইনসাস রাইফেল উদ্ধার হয়েছে।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আজ মঙ্গল ও মালতি নামে দু’জন মাওবাদী স্কোয়াড মেম্বার সারেন্ডার করলেন। তাঁরা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কোয়াডে ছিলেন এবং ২০১১-১২ সালের পরে ঝাড়খণ্ডে চলে যান। প্রথমে দলমা এরিয়ায়, পরে সারান্ডায় ছিলেন। তাঁরা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।’
এক নজরে
শুক্রবার ঝাড়খণ্ড স্কোয়াডের দুই মাওবাদী সদস্য মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রী মালতী আগ্নেয়াস্ত্র-সহ কলকাতায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
মঙ্গলের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও কার্তুজ এবং মালতীর কাছ থেকে একটি ইনসাস রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গল একসময়ে মাওবাদী নেতা কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পরে আকাশের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশ কলকাতায় এসে আত্মসমর্পণকারী এই দুই মাওবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। কলকাতার নগরপাল জানান, ২০১০ সালে যখন জনসাধারণের কমিটি সক্রিয় ছিল, তখন মাওবাদীদের স্কোয়াডে যোগ দেন মঙ্গল। কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পরে আর এক মাওবাদী নেতা আকাশের সঙ্গেও ছিলেন। আকাশের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন মঙ্গল। স্কোয়াডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মঙ্গল।
মালতির বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। তিনি আগে রঞ্জন মুণ্ডার স্কোয়াডে ছিলেন। পরে সারান্ডায় চলে যান। ২০২৬ ফেব্রুয়ারি মাসের পরে সারান্ডায় পরিস্থিতি কঠিন হওয়ায় তাঁরা ঠিক করেন আত্মসমর্পণ করবেন।
কলকাতার সিপি অজয় নন্দ জানান, পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জন সদস্য ছিলেন, যাঁরা বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তার হন কিংবা আত্মসমর্পণ করেন। সিপির কথায়, ‘কিছুদিন আগে রবি, মদন, মীরা ঝাড়খণ্ডে গ্রেপ্তার হন। অনিতা সারেন্ডার করেন। আকাশ কলকাতায় গ্রেপ্তার হন। কয়েক মাস আগে পুষ্পা সারেন্ডার করেন। বাঁকুড়ায় শচীন, জবা, মিতা আত্মসমর্পণ করেন। মাধাই পাত্রও সারেন্ডার করেন। কলকাতা থেকে বেলা পাত্র গ্রেপ্তার হন। আজ আরও দু’জন এখানে আত্মসমর্পণ করলেন।’
মঙ্গলের নামে ৬-৭টি পুরোনো মামলা রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তাঁর মাথার দাম রাখা হয় ৫ লক্ষ টাকা। মালতিকে ধরতে পারলে ২ লক্ষ টাকা পুরষ্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। এ দিন দু’জনই আত্মসমর্পণ করলেন।
কলকাতার সিপি অজয় নন্দা বলেন, ‘আমাদের এখানে ২০১২ থেকে কোনও ঘটনা নেই। তাঁরা ঝাড়খণ্ডের স্কোয়াড মেম্বার ছিলেন। সেখান থেকে এখানে এসে সারেন্ডার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জনের নাম ছিল, সকলেই এখন সারেন্ডার করেছেন বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে আমাদের কাছে এখন আর এমন কোনও নাম নেই, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের, অথচ মাওবাদী স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য।’ মঙ্গল-মালতীকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ কলকাতায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলেও জানান সিপি।