শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক বন্ধ কর্মসূচি এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। মূল ফটকে তিনি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে ঝুলিয়ে রাখা তালা ভেঙে দপ্তরে যান। সেখানে তাঁকে উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত জানান, তাঁরা একসঙ্গেই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে এবং আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক বন্ধ কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনের কারণে প্রায় ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিবাদের মুখে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটেনি।
সোমবার তালা ভেঙে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের অচলাবস্থার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
-20261012052957.jpg&w=1440&q=75)