ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ। সেখানে প্রস্তাবিত আপার সিয়াংয়ে বহুমুখী বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে কয়েকটি বাড়ি ও আবাসিক ভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে। শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আপার সিয়াং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে স্থানীয় এনএইচপিসি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাতটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পাসিঘাট থানার কিছু অংশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শুক্রবার সিয়াং অঞ্চলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে শুরু করেন।
ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন, যেমন– আদি বানে কেবাং, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফারমার্স ফোরামের যুব শাখা ও অন্যান্য যৌথ সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাদের মূল দাবি চারটি। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং বাঁধের আগাম সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনকারীরা। গত শনিবারও পরিস্থিতি থমথমে ছিল।
প্রস্তাবিত বাঁধের বিরুদ্ধে ডাকা বন্ধ কর্মসূচি চলাকালে আপার সিয়াং জেলার গেকু এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার নারী আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে পাসিঘাটে সহিংসতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন আটক হয়েছেন, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে– সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আপার সিয়াং বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন বিরোধিতা করে আসছে। প্রকল্পটি নির্মাণের প্রতিবাদে শুক্রবার বন্ধ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
