Published on
:
1 min read
এই সময়, রায়গঞ্জ: শিউলির সুবাস আর কাশফুলের দোলায় শরতের প্রকৃতিও জানান দিচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আগমনি বার্তা। রায়গঞ্জ শহরেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেই ব্যস্ততারই ছবি ধরা পড়েছে রায়গঞ্জ শহরের কলেজপাড়ায় অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাব পরিচালিত উত্তর কলেজপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয়। এ বার ৭১তম বর্ষে পদার্পণ করছে এই পুজো। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছরই নতুন ভাবনা এবং নিত্যনতুন থিমের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে পুজোকে উপস্থাপন করে থাকে এই পুজো কমিটি।
রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ। এ বার পুজোর মূল ভাবনা ‘বিন্দু জল জীবন বল’। জল সংরক্ষণ এবং জলের অপচয় রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাকেই এ বারের পুজোর থিমের মাধ্যমে তুলে ধরতে চলেছেন উদ্যোক্তারা। পরিবেশ বান্ধব উপাদানের মধ্যে মূলত বাঁশ, কাঠ, বাঁশের বাতা, চট, চাটাই, প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে পুজোমণ্ডপ তৈরি করছে মালদার শিল্পী অসীম মালাকার। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সাবেকি ধাঁচে প্রতিমা তৈরি করছেন রায়গঞ্জের স্থানীয় শিল্পী বাপি সাহা। শুধু মণ্ডপ বা প্রতিমা নয়, পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও।
পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘প্রতিদিনের জীবনে নানা প্রয়োজনে মানুষ অজান্তেই বিপুল পরিমাণ জল অপচয় করে চলেছে। এই অপচয় ভবিষ্যতে ভয়াবহ জল সঙ্কটের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন থেকেই জল ব্যবহারে মানুষকে সচেতন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। জল সংরক্ষণ ও জলের অপচয় বন্ধের সেই বার্তাকেই মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে মণ্ডপ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ বারের আয়োজন।’
