ঐতিহ্য, মর্যাদা আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের দুই পরাশক্তি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ এল ক্লাসিকোতে আজ রাতে মাঠে নামছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই লড়াইয়ে শুধু তিন পয়েন্ট অর্জনই নয়, বরং প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য থাকবে দুই শিবিরের। তবে জিতলে রিয়ালকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে কাতালানদের সামনে। সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা।
মহারণের আগে দুই দলের আত্মবিশ্বাসে অবশ্য রয়েছে ভিন্ন চিত্র। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে চলতি মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বার্সেলোনা। বিপরীতে, টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে এখনো আধিপত্য ধরে রেখেছে হান্সি ফ্লিকের দল। নয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছে রিয়াল। ফলে এই ম্যাচের ফল পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগে বড় ভরসা রাফিনিয়া ও তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। টানা ১০ ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল। অন্যদিকে, লিগে গোল করার ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন রাফিনিয়া। নিজেদের মাঠে কিংবা প্রতিপক্ষের আঙিনায়—এল ক্লাসিকোর মতো বড় মঞ্চে এই দুই তারকার পারফরম্যান্সই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিউস জুনিয়রকে না পাওয়ায় আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে রিয়াল মাদ্রিদের। মাঝমাঠে জুড বেলিংহামের সৃজনশীলতা ও আক্রমণে অবদানও হতে পারে দলের অন্যতম শক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ইয়ান দিয়োমান্দের পারফরম্যান্সও রিয়াল শিবিরে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এবারের এল ক্লাসিকোর অন্যতম বড় আকর্ষণ কোচ হোসে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তন। রিয়ালকে নতুন করে শিরোপার লড়াইয়ে ফেরাতে কাজ শুরু করা এই পর্তুগিজ কোচ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বার্সেলোনার তুলনায় তার দল গুছিয়ে নেওয়ার জন্য কম সময় পেয়েছে। অন্যদিকে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক প্রতিপক্ষ কোচ মরিনিয়োর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে পিএসজির বিপক্ষে হারের ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভুল শুধরে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে দুই দলেই রয়েছে বেশ কিছু চোট ও নিষেধাজ্ঞার সমস্যা। বার্সেলোনা পাচ্ছে না দানি ওলমো, জুলস কুন্দে, এরিক গার্সিয়াদের। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদকে লড়তে হচ্ছে ভিনিসিউস জুনিয়রের নিষেধাজ্ঞা এবং রদ্রিগো ও রাউল আসেনসিওর ইনজুরি শঙ্কা মাথায় রেখে।
আজকের এই এল ক্লাসিকোতে জয় পেলেই লা লিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচেই জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়বে বার্সেলোনা। এর আগে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে টানা ৯ ম্যাচ জিতে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া রেকর্ডের পাশে নাম লিখিয়েছিল কাতালানরা।
সব মিলিয়ে একদিকে বার্সেলোনার জয়ের ধারাবাহিকতা ও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জ—সবকিছু মিলিয়ে আজকের এল ক্লাসিকোতে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে তুঙ্গে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই মহারণে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা ফুটবলপ্রেমীদের। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে কারা।
