মুক্তমঞ্চের সামনে গরু রান্নার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা স্থিতিশীল হওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হচ্ছে ‘গরু ভোজ’।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গরু ভোজের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল শিক্ষার্থী প্রতি ৭০ টাকা। এ ভোজকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গরু নিয়ে আনন্দমিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আজম খান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টিকে যেরকম দেখানো হচ্ছে আসলে সেরকম না। ক্যাম্পাসে গরু ভোজের আয়োজনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠানটি পালিত হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনের এ বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ, আগের ঘটনাটি তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংসের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শুক্রবার গরু ভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন জকসু নেতারা।
