আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পিরোজপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. জুলফিকার আলী হায়দার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি পিরোজপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মদনমোহন জিউর আখড়াবাড়ি মন্দির ও পালপাড়া মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক প্রস্তুত ও নিরাপত্তা নিয়ে মন্দির কমিটি ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, “এখানে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির যে চমৎকার সংস্কৃতি চলে আসছে, তা কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকবে। এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে চাইলে তা শক্ত হাতে রুখে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণ ও সংবাদকর্মীরা সচেতন থাকলে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।”
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, পুরো জেলায় দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি মন্দির কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকের পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিচ্ছিন্ন চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধীদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই। তাই এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির চলাফেরার ওপর সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান (পিপিএম-সেবা), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৪৬৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে ৫৭টি পূজামণ্ডপের মূল আয়োজন।
জেএইচআর
