খুলনার ডুমুরিয়ায় গরুর মাংসের কথা বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অপরাধে আনিচুর রহমান পলাশ নামের এক কসাইকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা এ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর এলাকার প্রয়াত লুৎফর দফাদারের ছেলে আনিচুর রহমান পলাশ (৪৫) একজন মাংস বিক্রেতা। আঠারো মাইল বাজারসহ বিভিন্ন হাটে বাজারে তিনি গরুর গোশত বিক্রি করতেন। বর্তমানে স্থানীয় হাটবাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে মাংস সাপ্লাইর কারবার ছিল তার। কিন্তু তিনি ওই ব্যবসার আড়ালে গড়ে তোলেন অবৈধ কারবার। গরুর মাংসের পরিবর্তে সরবরাহ করতেন ঘোড়ার মাংস। প্রায় ৭/৮ মাস ধরে তিনি এ কাযক্রম চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি খুলনা স্পেশাল রেসপন্স বাহিনী (এসআরবি)-৬ জানতে পারেন এবং শুরু করেন তদন্ত অভিযান।
একপর্যায়ে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে আনিচুরের খামারে জবাই করা হয় ৩টি রোগা ঘোড়া। শ্রমিক দিয়ে চলছিল মাংস কাটাকাটি ও প্যাকেট জাতের কাজ। এমন খবরের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে ওই খামারে অভিযানে যান এসআরবি-৬ কোম্পানি এবং ঘোড়ার মাংস ও হাড়গোড়সহ অবৈধ ব্যবসায়ী আনিচুর রহমান পলাশকে আটক করেন। পরে শনিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রার্থী সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রতারণার অপরাধে অভিযুক্ত আনিচুর রহমান পলাশকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।
আদালত পরিচালনায় সহযোগিতায় ছিলেন খুলনা স্পেশাল রেসপন্স বাহিনীর (এসআরবি)-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েনুদ্দীন মোহাম্মদ জাহিদ। তিনি জানান, অসাধু ব্যবসায়ী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
