ফের পিত্তনালির জটিল ‘রিকনস্ট্রাক্টিভ’ অস্ত্রোপচারে এক যুবতীকে ‘শাপমুক্ত’ করল টালিগঞ্জের এমআর বাঙ্গুর হাসপাতাল। জেলা হাসপাতালের সীমিত পরিকাঠামো কাজে লাগিয়েই মেডিক্যাল কলেজের সমতুল অস্ত্রোপচারে তাক লাগিয়ে দিল বাঙ্গুরের সার্জারি টিম! প্রমাণ করল, ইচ্ছে থাকলে জেলা হাসপাতালেও ‘ম্যাজিক’ দেখানো যায়।
মহারানি খাতুন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে হুগলির আরামবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হয়। তবে অস্ত্রোপচারের কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া, বমি এবং পিত্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে জীবনঘাতী ‘বিলিয়ারি পেরিটোনাইটিস’ রোগ বাসা বাঁধে। পরবর্তী কয়েক মাসে বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার আপৎকালীন ড্রেনেজ ও চিকিৎসা করানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরে এমআরসিপি ও ইআরসিপি পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর মূল পিত্তনালিটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
গত ৬ অক্টোবর প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী এক জটিল ‘রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জারি’র মাধ্যমে রোগীর আটকে থাকা লিভার, পাকস্থলি ও অন্ত্রকে অত্যন্ত সাবধানে আলাদা করে পিত্তনালির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পার হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই বিলিরুবিনের মাত্রা কমে ৮.২ থেকে ১.৪-এ নেমে আসে। সম্প্রতি ২৯ বছরের মহারানিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রোগীকে বাঙ্গুর হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগে ডাক্তার বিভূতি সাঁতরার অধীনে ভর্তি করা হয়। বারবার পেটে অস্ত্রোপচার হওয়ার কারণে ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো একে অপরের সঙ্গে মারাত্মকভাবে আটকে গিয়েছিল। তাছাড়া স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়ার ফলে রোগীর ফুসফুসেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দেন ডঃ বিভূতি সাঁতরা। সহ-সার্জন হিসাবে ছিলেন ডাঃ অনুভব সাহা, ডাঃ পারমিতা চৌধুরী, ডাঃ সুখচাঁদ শেখ ও ডাঃ পার্থিব চক্রবর্তী। অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ দীপক কুমার ও ডাঃ শাহনওয়াজ।
ডাক্তার বিভূতিবাবু জানান, গত ৬ অক্টোবর প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী এক জটিল ‘রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জারি’র মাধ্যমে রোগীর আটকে থাকা লিভার, পাকস্থলি ও অন্ত্রকে অত্যন্ত সাবধানে আলাদা করে পিত্তনালির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পার হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই বিলিরুবিনের মাত্রা কমে ৮.২ থেকে ১.৪-এ নেমে আসে। সম্প্রতি ২৯ বছরের মহারানিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। হাসপাতাল সুপার ডাঃ শিশির নস্কর জানান, ‘‘সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই এই ধরনের জটিল রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জারি করা সম্ভব হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ টেকনিক্যাল টিম ও যৌথ প্রচেষ্টার জোরে বাঙ্গুর জেলা হাসপাতালেও এই কঠিন অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে।” উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বাঙ্গুরেই সার্জেন ডাঃ সপ্তর্ষি কুণ্ডুর অধীনে পিত্তথলির জটিল অপারেশনে নবজীবন লাভ করেন এক রোগী। ফের মিলল সাফল্য।
