কোথাও বজ্রনিরোধক দণ্ডের অবস্থানই নিশ্চিত করতে পারছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, কোথাও আবার রোপণ করা তালগাছের একটিও টিকে নেই।
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে যশোরে সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল তিনটি বজ্রনিরোধক দণ্ড। রোপণ করা হয়েছিল তালগাছের চারাও। এসব উদ্যোগে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। কোথাও বজ্রনিরোধক দণ্ডের অবস্থানই নিশ্চিত করতে পারছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, কোথাও আবার রোপণ করা তালগাছের একটিও টিকে নেই। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় বজ্রপাতে প্রাণহানি কমানো যাচ্ছে না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত এক বছরে যশোরে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৮ জনই কৃষক। রয়েছেন গৃহিণী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও চাকরিজীবী। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। হতাহতদের বেশির ভাগই গ্রামের বাসিন্দা।
বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত কেশবপুর ও ঝিকরগাছায় ২০২২ সালে তিনটি বজ্রনিরোধক দণ্ড বা লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপন করা হয়। কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়নের দেউলি গ্রামের বালিয়ার বিলে একটি এবং ঝিকরগাছার মাগুরা ও গদখালীতে দুটি দণ্ড স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয় ২২ লাখ টাকার বেশি। তবে স্থাপনের পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বালিয়ার বিলে স্থাপিত দণ্ডটির নিচের কয়েকটি ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। সেখানে পৌঁছতে বুকসমান পানি পার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দণ্ড স্থাপনের পর প্রথম দুই বছর এলাকায় বজ্রপাত কম দেখা গেলেও এখন আবার আগের মতো হচ্ছে। কিছুদিন আগেও সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।’
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। ২০১৮ ও ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ হাজার তালগাছের চারা রোপণের প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে সেগুলোর অধিকাংশই টেকেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কেশবপুরের বালিয়ার বিলের সড়কের পাশে ২০২২ সালে লাগানো ৫০টির বেশি চারার একটিও বেঁচে নেই বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে চারা রোপণের তথ্য থাকলেও সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ৫ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে তার কার্যালয়ের নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ের তথ্য জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের জানান, জেলায় আগে তিনটি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানেন না। তালগাছের চারাও টেকেনি। স্থানীয়দের অবহেলা ও গবাদিপশুর খেয়ে ফেলার কারণে এমন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এখন বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে প্রচার ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবার সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অনুদান পেতে পারেন। তবে মণিরামপুরের ডুমুরির বিলে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হাফিজুর রহমানের স্ত্রী তহমিনা জানান, তারা এ ধরনের সহায়তার বিষয়ে জানতেন না। ফলে আবেদনও করেননি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচার-প্রচারণার অভাব ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
