উৎসবের আনন্দে বিষাদের সুর। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু। এহেন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ। যদিও চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপরতার সঙ্গে নেমে পড়েছে প্রশাসন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১৬৩ ধারা জারি হয়েছে চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায়। তবুও ‘চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থা’র অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সেলেবমহলের একাংশ। এমন আবহেই চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের জন্য কলম ধরলেন ঋদ্ধি সেন।
“বাড়ি ধ্বংস হলে অবাক হবেন না, কাঁদবেন না, হতাশ হবেন না, কারণ আপনি সকল সত্যি জেনেও বাড়ির সদর দরজা খুলে দিয়েছেন…”
ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অভিনেতা। ঋদ্ধি প্রশ্ন তুলেছেন পুজো কমিটির উদ্যোক্তা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে। তাঁর কথায়, “আপনার পাড়ার সবথেকে পরিচিত বহিরাগত গুন্ডার দল যদি আপনার বাড়ির কলিং বেল বাজিয়ে বহিরাগত রক্ষা কমিটির সদস্য সেজে আপনাকে সিকিউরিটি দিতে আসে আর আপনি সেই গল্প চেটেপুটে খেয়ে তাদের আসল পরিচয় জেনেও যদি তাদের বাড়িতে ঢুকতে দেন তাহলে আপনার কাছে ‘সত্য’ বহিরাগত আর আর মিথ্যে পরম আত্মীয়। তাই বাড়ি ধ্বংস হলে অবাক হবেন না, কাঁদবেন না, হতাশ হবেন না, কারণ আপনি সকল সত্যি জেনেও বাড়ির সদর দরজা খুলে দিয়েছেন স্রেফ স্বার্থপর রোমাঞ্চ পাওয়ার লোভে, তাতে বাড়ি জ্বলে জ্বলুক। ‘ভয় আউট সেনসেশন ইন’, এটাই আমাদের একমাত্র সত্য।” এখানেই অবশ্য থামেননি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পরে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও বার্তা দেন। এরপরেই পুজো উদ্যোক্তা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে লালবাজার। অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র-সহ বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। এমনকী চোরবাগানের বেশ কয়েকজন পুজো উদ্যোক্তা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা, তাঁদের জেরা করে বোঝার চেষ্টা করেন কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এমন আবহে সহ-নাগরিকদের উদ্দেশে ঋদ্ধি সেনের বার্তা, “যারা এখনও সব দেখে, জেনে, বুঝেও বিজেপিকে বাঁচানোর জন্য ছাতা খুলে ধরবেন তারা আগামী পরিবর্তনের পরই সবার আগে ছাতা ধরার শিবির বদলাবেন। আর যারা উন্মুক্ত আকাশের নিচে স্রেফ বাঁচার স্বপ্ন থাকার জন্য প্রাণ হারালেন আর সেই দৃশ্য যারা প্রত্যক্ষ করলেন এই শহরে তারা একে অপরের ছাতা হয়ে দাঁড়ান এই মুহূর্তে এবং আপসহীন হয়ে বলতে শিখুন যে, এই সরকার অপদার্থ, সুবিধেবাদী এবং মানুষের ধর্ম বিরোধী।” পৃথিবীর অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই অবশ্য এই একই তকমা সেঁটেছেন ঋদ্ধি। তাঁর কথায়, “বিজেপির অপরাধকে অপরাধ বলুন, কংগ্রেস, সিপিআইএম,তৃণমূল বর্তমানে নেই, বর্তমানে আমাদের শহরে আছে কিছু শবদেহ যারা বাঁচতে চেয়েছিল, আর যারা এখনও অপরাধের মধ্যে ভালো-খারাপের বাইনারি করেন, তারা সকলে বেঁচে থেকেও মৃত।”
