শেরপুরে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শেরপুরে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি লাভলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে দশকাহনিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ভাটিয়াপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামকে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান লাভলু মিয়া। এজন্য সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন তিনি। পরে সাইফুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় সাইফুলের পরিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে লাভলুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে লাভলু মিয়া সাইফুলের পরিবারের কাছে আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় সাইফুলকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেয় এবং তাকে জিম্মি করে রাখে লাভলুর লোকজন।
আরও পড়ুন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে লাভলু মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শেরপুর আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, মানবপাচার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শাকিল মুরাদ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালু বোঝায় ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থলে ৯ জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর একজন মারা গেছেন। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
আরও পড়ুন
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন ও নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন
গোপালগঞ্জে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ আহত ৩০
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ঘোষেরচর এলাকায় ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচরের মধ্যে ফুটবল খেলা চলাকালীন কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ফকিরকান্দির লোকজন ঘোষেরচরের হান্নান মোল্লাকে কুপিয়ে আহত করে। পরে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশের প্রায় শতাধিক সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহত দুইজনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ও এক পুলিশ সদস্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
বাদল সাহা/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
মণ্ডপজুড়ে পৌরাণিক কাহিনি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
মণ্ডপের ভেতরে প্রতিমাকে কেন্দ্র করে ছবিতে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে মহিষাসুরের অত্যাচার ও দেবীদুর্গার হাতে তার বধের পৌরাণিক কাহিনি। গত শনিবার রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দিরে। ছবি: খবরের কাগজ
-->ছাদজুড়ে সারি সারি বাঁশের তৈরি খই চালা। পাশে লাল কাপড়ের কারুকাজ। ভেতরে ঝুলছে রঙিন বাতি। লাল, হলুদ, কালো ও সাদার বৈপরীত্যে সাজানো হয়েছে পুরো মণ্ডপ। প্রবেশপথ থেকে ভেতরের বিভিন্ন অংশে তুলে ধরা হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি।
অসুরদের অত্যাচার, দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন এবং শেষ পর্যন্ত দেবীদুর্গার হাতে মহিষাসুরের বধ–পুরো ঘটনাপ্রবাহ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায়। প্রচলিত মণ্ডপসজ্জার বাইরে গিয়ে শিল্প ও পৌরাণিক কাহিনির সমন্বয়ে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এই মণ্ডপ। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘অসুরা মণ্ডপ’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া মণ্ডপটির ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের তৈরি খই চালা। গ্রামবাংলায় মুড়ি ও খই থেকে বালু আলাদা করার কাজে ব্যবহৃত হয় এই উপকরণ। এর সঙ্গে লাল কাপড় ও বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে সাজানো হয়েছে ছাদ। মণ্ডপের কেন্দ্রে রয়েছে দেবীদুর্গা ও তার পরিবারের প্রতিমা। চারপাশে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনার ছবি।
আরও পড়ুন
মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মহিষাসুরের কাহিনি। ছবিতে দেখানো হয়েছে, শিবের আরাধনা করে বর লাভের পর মহিষাসুর ক্ষমতাধর ও অত্যাচারী হয়ে ওঠেন। দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করার পাশাপাশি মানুষের ওপরও নির্যাতন শুরু করেন তিনি। তার অত্যাচার থেকে মুক্তি দিতে আবির্ভূত হন দেবীদুর্গা। শেষ পর্যন্ত তার হাতেই বধ হন মহিষাসুর।
মণ্ডপের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনার ছবি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ছবির সঙ্গে রয়েছে সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন। এতে দর্শনার্থীরা সহজেই কাহিনির ধারাবাহিকতা বুঝতে পারছেন। সাজসজ্জার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অসুরের মস্তক ও তাদের অত্যাচারের দৃশ্যও।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌমিত্র শীল চন্দন বলেন, ‘দুর্গাপূজায় এখন মন্দির থেকে শুরু করে প্রতিমা–সবখানেই নান্দনিকতা এসেছে। আমাদের এই মন্দিরে একসময় শুধু প্রতিমা সুন্দরভাবে সাজানো হতো। কিন্তু এবার পূজার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মন্দিরটিকেও ভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। যে কেউ এই মন্দিরে এলে তার ভালো লাগবে। পাশাপাশি ছবির মাধ্যমে পৌরাণিক কাহিনিও জানতে পারবেন।’
মণ্ডপ ও প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ করেছেন রাজবাড়ী শহরের লক্ষ্মীকোল এলাকার বাসিন্দা অনুপ সরকার লাল্টু। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজের আগ্রহ ও কল্পনাশক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি পুরো মণ্ডপ সাজিয়েছেন। এ কাজে তার সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। পুরো কাজ তিনি একাই করেছেন।
অনুপ সরকার লাল্টু জানান, ছোটবেলা থেকেই শিল্পকর্মের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম তৈরির অভ্যাস গড়ে ওঠে। এবার মণ্ডপ সাজানোর সময় মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে শুরু করে দেবীদুর্গার হাতে তার বধের ঘটনাকে মূল ভাবনা হিসেবে বেছে নেন।
তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে শুরু করে দেবীদুর্গার হাতে তার বধ পর্যন্ত ঘটনাগুলো মণ্ডপের সাজসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরতে। দর্শনার্থীরা যেন শুধু প্রতিমা দেখে চলে না যান, বরং পুরো মণ্ডপ ঘুরে কাহিনিগুলোও জানতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই কাজ করেছি।’ মণ্ডপ সাজাতে আড়াই শর বেশি বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান অনুপ সরকার লাল্টু।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কুমার সাহা বলেন, এবার তাদের মন্দিরে দুর্গাপূজা আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রতিবছরের চেয়ে ভিন্নধর্মী কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই ভাবনা থেকেই মণ্ডপের সাজসজ্জায় নতুনত্ব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘অসুরা মণ্ডপ’-এর সাজসজ্জা দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে। এখানে তারা প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি পৌরাণিক কাহিনি সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
আরও পড়ুন
বৃক্ষ লেন হলো ‘বিলবোর্ড লেন’
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ এএম
সিলেট নগরীর সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার সড়ক বিভাজকে ২৬টি বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ছবি:মামুন হোসেন
-->সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন বৃদ্ধির জন্য পাঠানটুলা এলাকায় ‘বৃক্ষ লেন’ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সবুজায়নের বদলে সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে বাণিজ্যিক বিলবোর্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃতির ছোঁয়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বৃক্ষ লেনের নামে জায়গাটিকে ‘বিলবোর্ড লেনে’ পরিণত করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, ছয়-সাত মাস আগে বাংলাদেশ বিলবোর্ড অ্যাডভার্টাইজিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সিসিক এক বছরের জন্য পাঠানটুলা এলাকার সড়ক বিভাজক লিজ দেয়। গাছ লাগানো, লাইটিংসহ ওই জায়গা সৌন্দর্যবর্ধনের শর্তে তিনি লিজ নেন। পাশাপাশি ২০টি মিনিপোল (রাস্তার পাশে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাঝারি আকারের বিলবোর্ড) স্থাপনেরও অনুমতি নিয়েছেন।
রাজস্ব শাখা সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন থেকে বিভিন্ন এজেন্ট ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে ভাড়ার ক্ষেত্রে তিন ধরনের বিলবোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। সাধারণ বিলবোর্ড, মিনিপোল বিলবোর্ড ও ইউনিপোল বিলবোর্ড।
আরও পড়ুন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৬টি ৬ বাই ৪ ফুটের স্টিল দিয়ে তৈরি বিলবোর্ড। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, লিজ গ্রহীতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিনিপোলের অনুমতি নিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী, মাটি থেকে মিনিপোলের মূল বিজ্ঞাপন বোর্ডটির উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হওয়ার কথা। তবে এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি। মাটি থেকে মাত্র ৪ ফুট উচ্চতায় বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে। গাছ রোপণের কথা থাকলেও নামমাত্র কিছু পাতাবাহার ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছে, যেগুলো সড়ক বিভাজকের জন্য উপযুক্ত না। বিলবোর্ডের কারণে এগুলো এরই মধ্যে আড়ালে চলে গেছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নগরীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা, বায়ুদূষণ ও তাপপ্রবাহ কমানোর লক্ষ্যে গ্রিন সিটি গড়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা পাঠানটুলায় এসে খাতা-কলমে আটকে গেছে। মূলত বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোকে সুবিধা দিতে এবং বাণিজ্যিক মুনাফার কৌশল হিসেবে ‘বৃক্ষ লেন’ নামটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব বিলবোর্ড অপসারণ করে সেখানে পর্যাপ্ত বৃক্ষ রোপণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবেশকর্মী শাহ সিকান্দার আহমদ শাকির বলেন, ‘এতদিন শুনে এলাম পাঠানটুলা চত্বর ও সড়ক বিভাজকে বৃক্ষ লেন করা হবে। কিছু গাছও লাগানো হয়েছিল। এখন দেখি সামান্য জায়গার মধ্যে ২৬টি বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। বিশালাকার বিলবোর্ডের কারণে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ব্যাহত হচ্ছে। গাছ লাগিয়ে সবুজবর্ধন করার নামে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিলবোর্ডের ব্যবসা করছেন।’
এদিকে সিসিকের পক্ষ থেকে মিনিপোল স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও লিজ গ্রহীতা বলছেন তিনি স্ট্রিট-টি সাইনবোর্ড করেছেন। যদিও সরজমিনে গিয়ে তার কথার সত্যতা মেলেনি।
লিজ গ্রহীতা বাংলাদেশ বিলবোর্ড অ্যাডভার্টাইজিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভুলে ২৬টি সাইবোর্ড লাগানো হয়েছিল। এখান থেকে ৬টি বোর্ড কমবে। আমাদের ২০টির পারমিশন আছে। ২০টিই লাগাব। ১ বছরের চুক্তি হয়েছে সিসিকের সঙ্গে। এখানে গাছ লাগানো হয়েছে। সিসিক এটার অনুমতি দিয়েছে আন্ডার সিটি বিউটিফিকেশন। এই রাস্তায় বাগান বিলাশসহ আরও কিছু গাছ লাগানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় আমাদের টাকা দিয়ে ফেঞ্চিং করেছি। আগে কিছু গাছ লাগানো ছিল। আমরা সেখানে আরও কিছু গাছ লাগিয়েছি। সেগুলোতে সময়ে সময়ে পানি দিতে হয়, সেটাও আমরা করে দিই। নগর সৌন্দর্যের আন্ডারে এই রাস্তায় লাইটিং করে দেব। এরও কাজ চলছে। রোড ডিভাইডারের ব্লকগুলো সাদা-কালো রং করে দেব।’
সিসিকের বিজ্ঞাপন বিভাগের পরিদর্শক গৌতম রায় বলেন, ‘লিজ গ্রহীতা ২০টি মিনিপোলের অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে আরও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। এ জন্য আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উনি বলেছেন, পূজার পর এগুলো সরিয়ে নেবেন।’
