বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে মুম্বাইয়ের রাস্তায় গুলি চালানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যায় শহরের জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিনেতা নিজে অক্ষত থাকলেও বন্দুকধারীদের গুলিতে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং কাছে থাকা একটি অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন। টাইগারের বাবা প্রবীণ অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ১৫টি বিশেষ দল গঠন করেছে মুম্বাই পুলিশ। গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রচার পেলেও মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার নেপথ্যের কারণ এবং এর সঙ্গে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মুম্বাইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে প্রকাশ্যে এমন গুলির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অভিনেতা রণবীর শোরে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্মাতা রাহুল ঢোলাকিয়াও শহরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ) এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চলচ্চিত্রকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজির চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
বলিউড তারকাদের ঘিরে গুলির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ওই ঘটনায় পরবর্তীতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ও উপস্থাপক কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’ তিন দফায় (১০ জুলাই, ৭ আগস্ট এবং ১৬ অক্টোবর) গুলির লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ক্যাফেতে চালানো সেসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হননি এবং বিষয়টিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই ধারণা করেছিলেন তদন্তকারীরা। একের পর এক এমন ঘটনায় বিনোদন জগতের তারকা ও তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, টাইগার শ্রফের ওপর সর্বশেষ এই হামলায় সেই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হলো।
