Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর মধ্যেও এ বার হাইকোর্ট প্রায় প্রতিদিন খোলা থাকার কথা শোনা যাচ্ছিল কিছু দিন ধরেই। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে ছুটির মধ্যে কবে কোন বেঞ্চ বসবে, তার সূচি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, অক্টোবরের ২২, ২৩, ২৭, ২৮, ৩০ তারিখে একটি করে ডিভিশন বেঞ্চ এবং একটি করে সিঙ্গল বেঞ্চ বসবে। নভেম্বরের ২, ৪, ৬, ৯, ১০ তারিখেও একই রকম ব্যবস্থা থাকবে।
তবে ঘটনা হলো, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত পূজাবকাশের প্রতিটি দিনই, মায় শনি–রবিবারেও জরুরি প্রয়োজনে বেঞ্চ বসার নির্ঘণ্ট জানিয়ে রেখেছেন হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকী ১৬ ও ১৯ অক্টোবর, ষষ্ঠী ও অষ্টমীর দিন সাধারণ ভাবেই ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল প্রথমে। পরে আইনজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে ওই দু’দিন শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে বেঞ্চ বসানোর সংস্থান রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অক্টোবরের পাঁচ এবং নভেম্বরের পাঁচ দিন মিলিয়ে সাধারণ ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসবে দশ দিন, যা কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। গত বছরেও এমন বেঞ্চ বসেছিল মোটে চার দিন। এ বারের নির্ঘণ্টে প্রশ্ন উঠেছে— জরুরি বিচার পরিষেবা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও উৎসবের দিনগুলিতে বিচারপতি, আইনজীবী ও আদালতের কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিসরের কথাও কি ভাবা উচিত নয়? সূচি অনুযায়ী, এক–একজন বিচারপতিকে গড়ে দু’থেকে তিনটি ভ্যাকেশন বেঞ্চে বসতে হবে। কিন্তু দায়িত্ব শুধু শুনানির দিনগুলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে যে কোনও দিন যেহেতু বেঞ্চ বসতে পারে, সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের অন্তত পাঁচ থেকে ছ’দিন প্রস্তুত থাকতে হবে। ফলে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত কর্মী-আধিকারিকদেরও ছুটির দফারফা হওয়ার সম্ভাবনা।
হাইকোর্টের কর্মী–অফিসারদের বক্তব্য, পুজোর সময়টা শুধু উৎসবের নয়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোরও। অনেকে এই সময়ে সপরিবার বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আগাম তৈরি সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে বেড়াতে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কর্মী–অফিসারদের জয়েন্ট ফোরাম। বিচার বিভাগের জরুরি কাজের গুরুত্ব অস্বীকার না করেও তাঁদের প্রশ্ন, পুজোর ছুটিতেও কি এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে? বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের আবেগ ও পারিবারিক সময়ের মূল্য কি বিবেচনায় আসবে না? এ সব নিয়ে আজ, বুধবার বিচারপতিদের ফুল বেঞ্চের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আইনজীবী এবং কর্মী-অফিসাররা।
