আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটা লটারি জিতে ফেলতে পারলেই কেল্লাফতে! ১০টা-৫টা গতেবাঁধা চাকরি ছেড়ে জীবন হঠাৎ বদলে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু এই স্বপ্ন সত্যি হলে ঠিক কেমন লাগে? কতটা পরিবর্তন আসে জীবনে? এবার তা-ই জানা গেল আবুধাবিতে কর্মরত ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ অনিলকুমার বোল্লার থেকে। গত বছর একটি লটারি জিতে তাঁর জীবন আমূল বদলে গিয়েছে। সেই লটারি জেতার অভিজ্ঞতাই তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, তেলেঙ্গানার বাসিন্দা বোল্লা ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীতে লটারিতে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) দিরহাম জিতেছিলেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার অর্থমূল্য ২৪০ কোটি টাকা। এটি ওই দেশের ইতিহাসে লটারির মাধ্যমে জেতা সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ। যা সেই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। লটারি জেতার ১২ মাস পর, ২৯ বছর বয়সি এই যুবক বিপুল সম্পদের সুবাদে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। লটারির টাকায় বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কেনা, সম্পত্তি কেনা-কিছুই বাদ যায়নি। কিন্তু নতুন জীবনযাত্রার শুরুর দিকের সেই তুমুল উত্তেজনা এখন কিছুটা থিতিয়ে এসেছে।
বোল্লা ‘খালিজ টাইমস’-কে বলেছেন, "এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটাচ্ছি।" তিনি বলেন, “লটারি জিতে আমার জীবন বদলে গিয়েছে। আমার আকাঙ্ক্ষাগুলি নতুন রূপ পেয়েছে।" হঠাৎ এই বড় অঙ্কের অর্থ জিতে বোল্লা নিজের অনেক ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।
বোল্লা জানিয়েছেন, লটারির টাকায় ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সম্পত্তি কিনেছেন। নিজের ও ভাইয়ের জন্য গাড়ি কিনেছেন। বেশ কিছু বিলাসবহুল ঘড়ি ও গ্যাজেট সংগ্রহ করেছেন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। মায়ের বহুদিনের ইচ্ছা পূরণ করে তিনি তাঁকে সোনার গয়না উপহার দিতে পেরেছেন। যা দেখে মায়ের চোখে জল বাধ মানছিল না। এছাড়া, কৃষিকাজে আগ্রহী বাবার জন্য তিনি কৃষিজমিও কিনে দিয়েছেন। তবে এত ধনসম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তেলেঙ্গানার পুরোনো বাড়িটি ছেড়ে যাননি। ওই বাড়িটিই ছিল তাঁর বাবার স্বপ্নের ঠিকানা।
লটারির টাকা হাতে পেয়েই তিনি বালি, থাইল্যান্ড এবং আমস্টারডামের মতো আন্তর্জাতিক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে লাগাতার ঘোরার সেই উন্মাদনাও এখন কিছুটা থিতিয়ে এসেছে। বর্তমানে তাঁর কাছে পরিবারকে সময় দেওয়াই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
বোল্লা নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তিনি আপাতত দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন। লটারি জয়ের পর অন্যান্য বিজয়ীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, "কোটিপতিদের ক্লাবে আপনাদের স্বাগত। বিনয়ী থাকুন, নিজেদের অর্থ ভালভাবে পরিচালনা করুন এবং তা বিচক্ষণতার সাথে ও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যয় করুন।"
