সংবাদ · সাধারণ
চুলের যত্নে রাইস ওয়াটার কতটা কার্যকর?
২২/১০/২০২৬

চুল মসৃণ
ও উজ্জ্বল
রাখতে ঘরোয়া
উপকরণের ব্যবহার
নতুন নয়। এসব উপকরণের মধ্যে চাল
ভেজানো পানি
বা রাইস
ওয়াটার এখন
বেশ জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি
করেন, নিয়মিত
এটি ব্যবহার
করলে চুল
লম্বা ও
ঘন হয়,
এমনকি চুল
পড়াও কমে। তবে এসব দাবির পক্ষে
পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক
প্রমাণ নেই।রাইস ওয়াটার
চুলের গঠন
ও বাহ্যিক
চেহারা কিছুটা
উন্নত করতে
পারে। বিশেষ
করে চুলের
ঘর্ষণ কমিয়ে
আঁচড়ানো সহজ
করতে সহায়তা
করতে পারে।
কিন্তু এটি
সরাসরি চুলের
বৃদ্ধি বাড়ায়
বা চুল
পড়া বন্ধ
করে, এমনটা
নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।রাইস ওয়াটারে কী থাকে?চাল ভিজিয়ে
রাখা বা
সেদ্ধ করার
পর যে
শ্বেতসারযুক্ত পানি পাওয়া যায়, সেটিই
রাইস ওয়াটার।
এতে অল্প
পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট,
অ্যামাইনো অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান
থাকতে পারে।
তবে চালের
ধরন এবং
পানি তৈরির
পদ্ধতি অনুযায়ী
এর উপাদানের
পরিমাণ বদলে
যায়।রাইস ওয়াটারে
থাকা ইনোসিটল
নামের একটি
উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত
চুলের সুরক্ষায়
ভূমিকা রাখতে
পারে কি
না, তা
নিয়ে গবেষণা
হয়েছে। পরীক্ষাগারভিত্তিক
কিছু গবেষণায়
চুলের ঘর্ষণ
কমানো ও
নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা বাড়ানোর সম্ভাবনার
কথা উঠে
এসেছে। তবে
বাড়িতে তৈরি
রাইস ওয়াটার
ব্যবহারে একই
ফল পাওয়া
যায় কি
না, সে
বিষয়ে পর্যাপ্ত
ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই।এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে
চুলের পরিচর্যায়
চালের পানি
ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে এর ব্যবহার
আরও বেড়েছে।রাইস ওয়াটার কি চুল দ্রুত লম্বা করে?রাইস ওয়াটার
সরাসরি চুলের
বৃদ্ধি বাড়ায়
বা চুলের
গোড়ার সংখ্যা
বৃদ্ধি করে,
এমন দাবির
পক্ষে জোরালো
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুলের বৃদ্ধি
মূলত জিনগত
বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি, বয়স ও
সার্বিক স্বাস্থ্যের
ওপর নির্ভর
করে।আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা এবং
মাথার ত্বকের
বিভিন্ন অসুস্থতার
কারণেও চুল
পড়তে পারে।
এসব ক্ষেত্রে
শুধু রাইস
ওয়াটার ব্যবহার
করলে মূল
সমস্যার সমাধান
হবে না।তবে চুল
মসৃণ হলে
আঁচড়ানোর সময়
ঘর্ষণ কমতে
পারে। এতে
চুলের ভেঙে
যাওয়ার প্রবণতা
কিছুটা কমতে
পারে এবং
চুলের দৈর্ঘ্য
ধরে রাখতে
সুবিধা হতে
পারে। মনে
রাখতে হবে,
চুল ভাঙা
কমানো আর
চুলের গোড়া
থেকে নতুন
চুল দ্রুত
গজানো এক
বিষয় নয়।চুল অতিরিক্ত
পড়তে থাকলে,
ক্রমশ পাতলা
হয়ে গেলে
বা টাক
পড়ার লক্ষণ
দেখা দিলে
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নেওয়া
উচিত।বাড়িতে যেভাবে তৈরি করবেন রাইস ওয়াটাররাইস ওয়াটার
তৈরিতে খুব
বেশি উপকরণের
প্রয়োজন হয়
না। কয়েকটি
সহজ ধাপ
অনুসরণ করলেই
এটি তৈরি
করা যায়:১. দুই
থেকে তিন
টেবিল চামচ
চাল ভালোভাবে
ধুয়ে নিন।২. এক
থেকে দুই
কাপ পরিষ্কার
পানিতে চাল
মিশিয়ে প্রায়
৩০ মিনিট
ভিজিয়ে রাখুন।৩. এরপর
পরিষ্কার পাত্রে
পানি ছেঁকে
নিন।৪. শ্যাম্পু
করার পর
চুল ও
মাথার ত্বকে
এই পানি
লাগান।৫. পাঁচ
থেকে ১০
মিনিট রেখে
ভালোভাবে ধুয়ে
ফেলুন।প্রথমে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করে
চুলের প্রতিক্রিয়া
পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সবার চুলে
একই ফল
পাওয়া যায়
না। চুল
শুষ্ক, রুক্ষ
বা আঠালো
হয়ে গেলে
ব্যবহার কমিয়ে
দিন অথবা
বন্ধ করুন।সংরক্ষণে
সতর্কতা
জরুরিরাইস ওয়াটার
সদ্য তৈরি
করে ব্যবহার
করাই ভালো।
বাড়িতে তৈরি
এই মিশ্রণ
দীর্ঘ সময়
ঘরের তাপমাত্রায়
রেখে দিলে
দূষিত হওয়ার
আশঙ্কা থাকে।
অব্যবহৃত অংশ
ফ্রিজে রাখুন
এবং গন্ধ,
রং বা
চেহারায় অস্বাভাবিক
পরিবর্তন দেখা
দিলে ফেলে
দিন।যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারেরাইস ওয়াটার
সবার মাথার
ত্বকের জন্য
উপযোগী নাও
হতে পারে।
এতে থাকা
শ্বেতসার চুল
ও মাথার
ত্বকে আস্তরণ
তৈরি করতে
পারে। ফলে
চুল আঠালো,
শক্ত বা
তৈলাক্ত মনে
হতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া বা
অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।ব্যবহারের পর চুলকানি, লালচে ভাব
কিংবা অন্য
কোনো অস্বস্তি
হলে সঙ্গে
সঙ্গে ব্যবহার
বন্ধ করুন।
আগে থেকেই
মাথার ত্বকের
সমস্যা থাকলে
বাড়তি সতর্কতা
প্রয়োজন।গাঁজানো
রাইস ওয়াটার কি বেশি উপকারী?কিছু ক্ষেত্রে
গাঁজানো রাইস
ওয়াটারকে সাধারণ
রাইস ওয়াটারের
চেয়ে বেশি
কার্যকর বলে
প্রচার করা
হয়। তবে
গাঁজন প্রক্রিয়ায়
চুলের পরিচর্যার
উপকারিতা বাড়ে,
এমন দাবির
পক্ষে পর্যাপ্ত
প্রমাণ নেই।
বরং সঠিকভাবে
তৈরি ও
সংরক্ষণ না
করলে এতে
অবাঞ্ছিত জীবাণু
জন্মানোর ঝুঁকি
থাকতে পারে।চুল সুস্থ রাখতে আর কী করবেন?চুলের যত্নে
শুধু কোনো
একটি ঘরোয়া
উপকরণের ওপর
নির্ভর না
করে নিয়মিত
পরিচর্যা ও
পুষ্টির দিকে
নজর দেওয়া
প্রয়োজন। পর্যাপ্ত
প্রোটিন ও
আয়রনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া, আলতোভাবে
চুল ধোয়া
ও কন্ডিশনিং
করা এবং
অতিরিক্ত তাপ
দিয়ে চুল
সাজানো এড়িয়ে
চলা উপকারী।
একই সঙ্গে
খুব আঁটসাঁট
করে চুল
বাঁধার অভ্যাস
কমানোও জরুরি।রাইস ওয়াটার
চুলের বাহ্যিক
পরিচর্যায় সহায়ক হতে পারে, তবে
চুল গজানো
বা চুল
পড়া বন্ধ
করার নিশ্চিত
সমাধান হিসেবে
একে বিবেচনা
করা ঠিক
নয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗